হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের কাছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলোতে তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমাগুলোর একটি ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইরানের উপকূলবর্তী এলাকায় অবস্থিত শক্তভাবে সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোর ওপর একাধিক ৫০০০ পাউন্ড (প্রায় ২,২৬৮ কেজি) ওজনের বোমা নিক্ষেপ করেছে। এসব বোমা ভূগর্ভের অনেক গভীরে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। তারা বলে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী সফলভাবে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের উপকূল বরাবর শক্ত ঘাঁটিগুলোতে একাধিক এমন অস্ত্র ব্যবহার করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এসব স্থাপনায় থাকা ইরানি অ্যান্টি-শিপ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী আন্তর্জাতিক জাহাজের জন্য হুমকি ছিল। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। এতে আরও বলা হয়, এই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ার পর। প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দামে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা দিয়েছে।
ওদিকে, ন্যাটোসহ যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মিত্র দেশ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তিনি হরমুজ প্রণালি নিরাপদ করতে সহায়তা চেয়েছিলেন তাদের কাছে। কিন্তু হতাশ ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোকে অনেক সহায়তা করলেও তারা এখন তার ডাকে সাড়া দিচ্ছে না। তিনি বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা মিত্র দেশগুলোর স্বার্থেই প্রয়োজন। অন্যদিকে, ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না এবং তাদের কর্মসূচি কেবল জ্বালানি উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত। মিত্রদের সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ভাবা যেত তারা বলবে- আমরা কয়েকটি মাইনসুইপার পাঠাতে চাই। এটা বড় কোনো বিষয় নয়, খুব বেশি খরচও লাগে না। কিন্তু তারা তা করেনি।
মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধের দায়ভার শেষ পর্যন্ত তার কাঁধেই থাকবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত অনেকটাই তার ব্যক্তিগত অনুভূতির ওপর নির্ভর করে নেয়া হয়েছে এবং কখন এটি শেষ হবে, সেটিও তার নিজস্ব সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
‘বাঙ্কার বাস্টার’ বোমা কী?
এই বোমাগুলোকে সাধারণত ‘বাঙ্কার বাস্টার’ বলা হয়। ২০২২ সালের একটি টাইমস প্রতিবেদনের মতে, প্রতিটি বোমার আনুমানিক মূল্য প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ডলার। তবে এগুলো গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর যে ৩০০০০ পাউন্ড ওজনের বোমা ফেলেছিল, তার চেয়ে কম শক্তিশালী। এ ধরনের বোমা মূলত এমন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়, যেগুলো শক্তভাবে সুরক্ষিত বা মাটির গভীরে স্থাপিত থাকে।
