কোদাল হাতে তারেক রহমান

৫৪ জেলায় খাল খনন শুরু শফিকুর রহমানের সাধুবাদ

কোদাল হাতে তারেক রহমান

ফন্ট সাইজ:

৪৯ বছর আগে শত শত মানুষকে নিয়ে কোদাল হাতে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। বাবার সেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সকালে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় কোদাল হাতে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশের ৫৪টি জেলায় একযোগে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়। এসব জেলায় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও স্থানীয় বিএনপি নেতারা। এর মধ্যদিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের পর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী।

ওদিকে, খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে দিনাজপুরের সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তারেক রহমান। উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করবো। খাল খননের মাধ্যমে দেশের পানির সমস্যার সমাধান করবো। বিএনপি’র রাজনীতির উদ্দেশ্য মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। এ সময় তিনি আরও বলেন, এই দেশের মানুষই সুন্দর আগামী গড়ে তুলবে, প্রয়োজন শুধু পরিকল্পনা, যারা মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা করতে চায়, তাদের থেকে সজাগ থাকার অনুরোধ করেন তিনি।
বিকালে দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্থানে নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানী তৈয়বা মজুমদার এবং বড় খালা প্রয়াত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভিক্ষুকদের মাঝে ২০টি ছাগল বিতরণ করেন তিনি। পরে সার্কিট হাউজ মাঠে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে বক্তব্য রাখেন। ইফতার মাহফিল শেষে বিমানযোগে ঢাকায় ফেরেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৭ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহাপাড়া খালটি খনন করেছিলেন। কর্মসূচিটির উদ্বোধনের জন্য সেই নানাবাড়ি দিনাজপুরের সেই খালটি বেছে নেন তারেক রহমান। সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সৈয়দপুর যান প্রধানমন্ত্রী। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথে কাহারোলের সাহাপাড়া খালে যান তিনি। এসময় ১২ কিলোমিটার সরু পথের দু’ধারে শিশু-কিশোর ও গ্রাম্য গৃহবধূরা দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিবাদন জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে অভিবাদনের জবাব দেন। গাড়ি থেকে নেমেই কোদাল হাতে সাহাপাড়া খালে নেমে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। নিজ হাতে মাটি কেটে টুকরিতে রাখেন তিনি। এসময় খালে জড়ো হওয়া শত শত নারী-পুরুষকে খাল খননের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকার প্রধানের সঙ্গে খাল খননে যোগ দেন উপস্থিত স্থানীয় নারী-পুরুষরা। এরপর খালের পাড়ে কয়েকটি বৃক্ষ রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি’র রাজনীতি হচ্ছে দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা। আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কৃষকের উপকার করা, মা-বোনদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা, এলাকার মানুষ, দেশের মানুষ, গ্রামের মানুষ কীভাবে ভালো চিকিৎসা পেতে পারে সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। আমাদের সন্তানেরা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা কীভাবে লেখাপড়া করে মানুষ হতে পারে, সেটি হচ্ছে আমাদের রাজনীতি।’

তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতি হচ্ছে কী করে মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো, সেটি কৃষিতেই হোক, সেটি শিল্পেই হোক, সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কিন্তু এই কাজগুলো যদি করতে হয় আমি কিন্তু একা পারবো না। কাকে লাগবে সঙ্গে? জনগণকে সঙ্গে লাগবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে যেমন আপনারা ধানের শীষের সঙ্গে ছিলেন, যেমন সমর্থন দিয়েছেন, এখনো কিন্তু আপনাদের সমর্থন ছাড়া এই কাজগুলো করতে পারবো না। জনগণের সমর্থন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। আমরা বিশ্বাস করি জনগণই হচ্ছে আমাদের সকল ক্ষমতার উৎস।

অনেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলে বিভ্রান্ত করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সতর্ক-সজাগ থাকতে হবে। বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে কারা দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। দেশের মালিক জনগণ সঙ্গে থাকলে যেকোনো কাজ যেকোনো পরিকল্পনা সফল করতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আজকে এই খাল কাটা কর্মসূচি, এটিই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা, এটিই হোক আমাদের শপথ। ইনশাআল্লাহ এই খাল খনন কর্মসূচি কতোটুকু সফল হলো আমি খবর রাখবো। আমি এই খাল খনন যখন শুনবো যে এই ১২ কিলোমিটার খাল কমপ্লিট হয়ে গেছে, ইনশাআল্লাহ আমি দেখতে আসবো। আবার দেখা হবে আপনাদের সঙ্গে এই খালের পাড়ে ইনশাআল্লাহ।

১২ কিলোমিটার এই খাল খননে মানুষের কি কি উপকার হবে, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৩১ হাজার কৃষক এখান থেকে পানি পাবেন। প্রায় ১২০০ হেক্টর জমি সেচ সুবিধার মধ্যে আসবে। সাড়ে ৩ লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবেন, এই খালের পানি বিভিন্নভাবে তারা ব্যবহার করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি হচ্ছে এই এলাকার কৃষক ভাইয়েরা, এই এলাকার কৃষাণী বোনেরা তারা যে ফসল উৎপাদন করবে, এখন যে ফসল উৎপাদন হচ্ছে তার থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি হবে।

বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের বেশির ভাগ গ্রাম অঞ্চলে বাস করে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষি। কৃষি যদি বাঁচে, কৃষক যদি ভালো থাকে, তাহলে বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকবে। সেই জন্যই আমরা বলেছিলাম নির্বাচনে আপনাদের ভোটে আল্লাহর রহমতে বিএনপি জয়যুক্ত হলে পরে সবচেয়ে প্রথম ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ ছিল সুদসহ আমরা মওকুফ করে দিবো। আমরা মওকুফের ব্যবস্থা করেছি।
খাল খনন কেন জরুরি তা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমগ্র বাংলাদেশের যে খালগুলো আগে ছিল, প্রায় সকল খাল ভরাট হয়ে গেছে। আমি আসার পথে, বিভিন্ন জায়গায় দেখলাম নদী পর্যন্ত ভরাট হয়ে গেছে। এই এলাকাতে খবর নিয়ে জানলাম, বর্ষার মৌসুমেও খরা হয়, অনেক জায়গায় পানি সমস্যা হয়। সেখানে চাষবাস করা যায় না। কিন্তু আমরা এই বর্ষার পানিটা কাজে ব্যবহার করতে চাই। এমনভাবে যাতে সমগ্র এলাকার মানুষ উপকার পায়। সেজন্যই আমরা সমগ্র বাংলাদেশে আজকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে খাল খনন শুরু করলাম।

আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল খননের মাধ্যমে একদিকে বর্ষার সময় হঠাৎ করে উজান থেকে পানি চলে আসে, নদী খাল সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে উজান থেকে যখন হঠাৎ করে পানি আসে, তখন দেখি যে আমরা নদী-খাল-বিলের আশেপাশে যে বাড়িঘর আছে মানুষজনের সেগুলো ভেসে যায়, গরু-ছাগল ভেসে যায়, মানুষের কাপড়-জামা নষ্ট হয়ে যায়। ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। এরকম সমস্যা যাতে না হয়, আমরা চাই খাল খননের মাধ্যমে উজানের সময়, বর্ষার সময়ের অতিরিক্ত পানি ধরে রাখবো। কারণ উজানের সময় যেই পানিটা আসে, আপনারা প্রত্যেকেই এটার উপরে অভিজ্ঞ, দেখেছেন, সাত দিন-দশ দিন থাকে, তারপরে সেই পানির আর খবর নাই। এই পানি যদি ধরে রাখতে পারি, তাহলে শুষ্ক মৌসুমেই হোক, বর্ষা মৌসুমেই হোক, কৃষক ভাইদের যাতে পানি সরবরাহ করতে পারি। যাতে উৎপাদন বাড়াতে পারি।

কৃষির উৎপাদন কেন বাড়ানো দরকার তার ব্যাখ্যায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের বিরাট দেশ একটা। এই মানুষগুলোর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা, এত মানুষের খাবার কি বিদেশ থেকে আনা সম্ভব? বিদেশ থেকে আনা সম্ভব না। এই খাবার দেশেই উৎপাদন করতে হবে। যেগুলো মৌলিক খাবার-দাবার ধান-চাল যেগুলো দেশে উৎপাদন করতে হবে। আল্লাহ এই দেশের মাটিকে এত উর্বর করে দিয়েছেন যে আপনি যদি বীজটা রোপণ করেন, একটু পানি দেন, মোটামুটিভাবেই সেখানে ফসল ফলবে। কাজেই আল্লাহর নেয়ামত এই পানি মানুষের উপকারে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি বলেন, এই খাল খননের মাধ্যমে আমরা যেরকম পানির সমস্যার সমাধান করবো, একইভাবে এই খাল খননের মাধ্যমে আমরা দুই পাশে ফলের গাছ লাগাবো, দুই পাশে যেগুলো মূল্যবান গাছ আছে সেগুলো লাগাবো, যাতে দেশের সম্পদ বৃদ্ধি পায়।

এ সময় তিনি বলেন, ৪ কোটি পরিবারের মায়েদের কাছে, আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। সেই কাজটিও কিন্তু আমরা শুরু করেছি। আমি জানি, এই এলাকার কোনো মা-বোন এখনো ফ্যামিলি কার্ড পান নাই। তবে এতটুকু বলতে পারি, ইনশাআল্লাহ আপনারা পাবেন, একটু সময় লাগছে কারণ সরকারের কিছু নিয়ম-কানুন আছে। পাইলট প্রজেক্ট প্রথমে শুরু করতে হয়। সেই পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ আপনাদের চিন্তা করার কোনো কারণ নাই, এই এলাকাসহ পুরা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় রংপুর বিভাগের যত মায়েরা আছেন সবার কাছে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিবো।

এই কাজটির জন্য শুধু একটু সময় প্রয়োজন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাত্র সরকারের বয়স হয়েছে এক মাস। আর একটা জিনিসও সবাই আপনারা বোঝেন, এই যে মধ্যপ্রাচ্যে একটা যুদ্ধ শুরু হয়েছে না? খবর তো সবাই রাখেন। রাখছেন না খবর? মধ্যপ্রাচ্যে যে আমাদের অনেক ভাইয়েরা আছে, ওখানে চাকরি করে, তাদের নিয়েও আমরা টেনশনে আছি যে, কখন আল্লাহ না করুক কিছু যদি হয়ে যায় কারও। এর মধ্যে কয়েকজন সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের আমরা আনার ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু সেই মানুষগুলোর কথাও আমাদের চিন্তা করতে হবে। তারা তো আমাদেরই কারও না কারও পরিবারের সদস্য। এই এলাকারও মানুষ হয়তো আছে সেখানে। তো এখন এই যে মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতির ওপরে একটু চাপ পড়েছে। তারপরও আমরা যেই কমিটমেন্ট, যেই ওয়াদা করেছি, সেগুলো কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে ইনশাআল্লাহ্ বাস্তবায়নের কাজ এরই ভেতরে শুরু করেছি।
তিনি বলেন, আগামী মাস থেকে ধীরে ধীরে সকল কৃষক ভাইদের কাছে, বিশেষ করে যারা ছোট কৃষক, ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক, মধ্যম কৃষক, তাদের কাছে আমরা এই কার্ডগুলো দেবো যাতে করে এই কার্ডের মাধ্যমে তারা বিভিন্ন রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে পারে।

এই এলাকার মানুষের জন্য আরেকটি খবর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই যে এখানে ইপিজেড আছে দিনাজপুরে, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়ে, এই এলাকায় আর কী কী কৃষিনির্ভর মিল-ইন্ডাস্ট্রি করা যায় যাতে করে এই এলাকার যারা বেকার যুবক আছে, বোনেরা আছে, তাদের যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সেই উদ্যোগও ইনশাআল্লাহ্ আমরা গ্রহণ করেছি।

প্রত্যাশিত দেশ গড়তে রাত-দিন কাজ করবে সরকার
প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সরকার ‘সর্বাত্মক’ রাত-দিন কাজ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে এক সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছর দেশে উন্নয়ন হয়নি। দেশের উন্নয়নের জন্য তার পরিকল্পনা রয়েছে। উন্নয়নের সুফল পেতে দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। নানি বাড়ির স্মৃতির কথা উল্লেখ করে এই এলাকার উন্নয়নে তার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শিগগিরই দেশের শিল্প কারখানা মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। ওই বৈঠকে সারা দেশে শিল্প কারখানা স্থাপন করে কীভাবে দেশের উন্নয়ন করা যায় সে বিষয়ে আলোচনা করবেন। এ সময় দিনাজপুরে শিল্প কারখানা স্থাপন করে বেকাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের মেয়াদ এক মাসও হয়নি। এরই মধ্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ শুরু হয়েছে।
কৃষি ঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা প্রদান ও খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী মাসে কৃষক কার্ড দেয়া হবে।

সরকারের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দিনাজপুরসহ সারা দেশের পানির সমস্যার সমাধান হবে। কৃষিজমি আবাদে পানি সংকট থাকবে না। ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে উপরে উঠলে আর্সেনিক সমস্যার সমাধান হবে।

ভিক্ষুকদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ছাগল বিতরণ
ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে ভিক্ষুকদের মাঝে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিতরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকালে দিনাজপুর সার্কিট হাউজ মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি সমাজসেবা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির’ আওতায় ভিক্ষুকদের মাঝে ২০টি ছাগল বিতরণ করেন।
এ সময় বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়াসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর খাল খনন কর্মসূচিকে বিরোধীদলীয় নেতার সাধুবাদ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জামায়াতের আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
গতকাল সোমবার বেলা ২টা ৪৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই সাধুবাদ জানান। পোস্টে বিরোধীদলীয় নেতা লেখেন- বাংলাদেশ একসময় কার্যত নদীমাতৃক দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল। নদীগুলো সচল ছিল। নদীপথে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং কৃষিক্ষেত্রে নদী ছিল বিশাল নিয়ামক শক্তি। পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ, জমির উর্বরা সংরক্ষণ এবং বর্ষাকালে পানিপ্রবাহ সঠিক থাকার কারণে ঘনঘন বন্যা এবং এই জনিত দুর্ভোগের প্রাদুর্ভাব কমই হতো

কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকে একদিকে ফারাক্কা বাঁধের অভিশাপ, অন্যদিকে প্রধান প্রধান নদীগুলোসহ সব গুরুত্বপূর্ণ নদ-নদী, খাল-বিল ভরাট হওয়ার ফলে এক সময়ের স্রোতস্বিনী নদীগুলো এখন ভরা মৌসুমে পানি ধারণ করতে পারে না। ফলে অকাল বন্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, শুকনো মৌসুমে মরুভূমির রূপ ধারণ করে। বর্ষায় পানির প্রবাহ বিঘ্নিত হয়ে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমনকি প্রধান প্রধান শহর ও নগরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। আবার শুকনো মৌসুমে যেখানে নৌ-চলাচল ও কৃষির জন্য পানির প্রয়োজন হয়, সেখানে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ করার মতো পানি থাকে না।
অতএব, দেশ বাঁচাতে হলে প্রধান প্রধান নদীগুলোতে পর্যাপ্ত ড্রেজিং সম্পন্ন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের উচিত হবে দেশ বাঁচানোর স্বার্থে নদ-নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে আনার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।

মনে রাখতে হবে, অতীতে ড্রেজিংয়ের নামে, নদী শাসনের নামে, নদী সংস্কারের নামে বাজেট বরাদ্দ হলেও তার কোনো সুফল পাওয়া যায়নি। কারণ লুটপাটতন্ত্র ছিল তখন শাসকদের মূলনীতি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার কোনো বিকল্প নেই। দেশবাসীর আমানত সর্বোত্তম পন্থায় স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজে লাগানো সরকারের দায়িত্ব। সরকার মূলত দেশবাসীর পক্ষে সব কর্মকাণ্ডে ব্যবস্থাপকের ভূমিকা পালন করবে। এমনকি খাল খননের সুফল তখনই পাওয়া যাবে, যখন নদীগুলো প্রাণ ফিরে পাবে, নাব্যতা ফিরে পাবে। অন্যথায় খাল খনন থেকেও জনগণ কাক্সিক্ষত সুফল পাবে না।

আবদুল ওয়াদুদ ভূইয়া

৪ মাস আগে

মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতার সাধুবাদ জানান ইতিবাচক রাজনীতি র কালচার যা চালু হলে সংস্কার এর মূল উপাদান গুলোর প্রতিফলন ঘটবে। ধন্যবাদ বিরোধী দলীয় নেতা আপনাকে। রাজনীতির শোভন কালচার গুলো ই আমাদের দেশের আমরা জনগণ রাজনীতি বিদদের নিকট পাইনি।

মন্তব্য করুন