জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব বাস্তবায়নে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা এ বিষয়ে নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেছেন। সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় জাতীয় সংসদে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিরোধী দল। ওদিকে সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনার প্রস্তাব দেয় সরকারি দল। গতকাল বেলা ১১টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের বৈঠক শুরু হয়। শেষ হয় বিকাল ৩টায়। এর মধ্যে নামাজের জন্য ২০ মিনিট বিরতি দেয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানসহ এমপিরা উপস্থিত ছিলেন।
অধিবেশনের শুরুতেই অনির্ধারিত আলোচনার জন্য দাঁড়ান জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর শফিকুর রহমান। তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষ হলে বিরোধীদলীয় নেতাকে সুযোগ দেয়া হবে। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে শফিকুর রহমানকে ফ্লোর দেন স্পিকার। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সংসদ স্বাভাবিকভাবে তার নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আসেনি। এটি প্রেসিডেন্টের আদেশের মাধ্যমে এসেছে। এটি জারি করা হয়েছে ১৩ই নভেম্বর ২০২৫।
জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ পুরোটা পড়ে শুনিয়ে তিনি বলেন, এই আদেশ অনুযায়ী নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের কথা রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে এই অধিবেশন ডাকা হয়নি। আমার উদ্বেগের বিষয়টি এখানে।
জুলাই সনদ আদেশের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, আদেশে বলা রয়েছে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে। কিন্তু এটি গঠন হয়নি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যে পদ্ধতিতে সংসদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে, সেই একই পদ্ধতিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে প্রেসিডেন্ট সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
এবারের সংসদ সদস্যরা দু’টি আলাদা ভোটের মাধ্যমে দুটি ‘ক্যাপাসিটিতে’ নির্বাচিত হয়েছেন উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আদেশ অনুযায়ী বিরোধী দলের ৭৭ জন সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এ আদেশ অনুসারে তারা একইসঙ্গে সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেতে চান।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, তিনি সরকারি দল থেকে বক্তব্য আশা করছেন। এরপর বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শুরুতে তিনি স্পিকারের কাছে প্রশ্ন রাখেন কোন বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতাকে ফ্লোর দেয়া হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যদি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো মুলতবি প্রস্তাব আনতে হয়, সেটার জন্য বিধি আছে। সেই বিধিতে কোনো নোটিশ তিনি দিয়েছেন কিনা। যদি জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে হয়, সেই বিষয়ে বিধি ৬৮ অনুসারে কোনো নোটিশ দিয়েছেন কিনা। তিনি বলেন, সংসদের অধিবেশন না থাকা অবস্থায় প্রেসিডেন্ট অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন। কিন্তু সংবিধানের ধারা পরিবর্তন হবে বা সংবিধান পরিবর্তন হবে, এ রকম কোনো বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসতে পারে না। সেটা জায়েজ নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কিন্তু এই যে আদেশ (জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ), এই আদেশটা না অধ্যাদেশ, না আইন। মাঝামাঝি জিনিস। এই আদেশটিকে ‘আরোপিত’ আদেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট দু’টি কাজ বাদে সবগুলো প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে করে থাকেন। একইভাবে এই সংসদের আহ্বানও তিনি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী। কিন্তু সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব না থাকায় প্রধানমন্ত্রীও সেটা প্রেসিডেন্টকে পরামর্শ দিতে পারেন না। প্রেসিডেন্টও সেই অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন না বিধায় তা করেননি। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন যদি বিরোধী দলের প্রশ্ন অনুসারে প্রেসিডেন্টের জারি করা আদেশটা সাংবিধানিক হয়, সেটা নিয়ে এখানে আলোচনা হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ এইটা এবং গণভোট অধ্যাদেশের নির্দিষ্ট অংশ কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না মর্মে আদালত রুল জারি করেছেন। এখানে হয়তো বিচার বিভাগ মতামত দেবে। কিন্তু তাদের মতামত এই সার্বভৌম সংসদের ওপর কখনো বাইন্ডিং (বাধ্যতামূলক) না। কিন্তু সার্বভৌম সংসদ আবার এমন কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না, যেটা জুডিশিয়ারিতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল হয়ে যাবে বা ভায়োলেশন অব কনস্টিটিউশন হয়ে যাবে। সুতরাং উভয় দিকে লক্ষ্য রেখে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে আইনানুগভাবে এবং সাংবিধানিকভাবে যেতে হবে।
তিনি বলেন, এখন যদি বলা হয় যে, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে, মানলাম। আমরা নির্বাচিত হয়েছি সাংবিধানিক ভোটে। নির্বাচন কমিশনের দুইটাই এখতিয়ার। একটা হচ্ছে জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা, আরেকটা হচ্ছে প্রেসিডেন্টের নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। এটা হচ্ছে কনস্টিটিউশনাল ম্যান্ডেট, যেটা নির্বাচন কমিশন পালন করতে বাধ্য। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের জন্য আরেকটা আইন হয়েছে। বিএনপিও এটা প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু মাঝখানে আদেশটা জারি করে গণভোট দেয়া হলো চারটা প্রশ্ন। যে প্রশ্নের মধ্যে একটা বিশাল প্রশ্ন জুলাই জাতীয় সনদের সমঝোতা হয়নি। এটা একটা জবরদস্তিমূলক আরোপিত আদেশ করে সেই আদেশের একটা প্রশ্ন গণভোটের মধ্যে দেয়া হয়। চারটা প্রশ্ন হলেও মানুষ কোন কোন প্রশ্নে হ্যাঁ, কোন কোন প্রশ্নে না বলবে সে বিকল্প ছিল না। তিনি বলেন, তারপরও গণভোটের রায় যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, সংবিধানে আগে সংস্কার আসতে হবে। সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এই অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল আনা যাবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। কারণ ১৩৩টা অধ্যাদেশ এখানে উত্থাপিত হয়েছে প্রথম দিনে। তিনি বলেন, কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে যদি সিদ্ধান্ত হয়, সংসদ যদি সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বাজেট অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপন হতে পারে।
তিনি বলেন, আমি কোনো কিছু অস্বীকার করছি না। জনরায়কে সম্মান দিতে হবে, কিন্তু সেটা সাংবিধানিকভাবে দিতে হবে, আইনগতভাবে দিতে হবে। এখানে ইমোশনের কোনো জায়গা নেই। রাষ্ট্র ইমোশন দিয়ে চলে না। রাষ্ট্র চলে সংবিধান দিয়ে, আইন দিয়ে, কানুন দিয়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিতে আলোচনা করার প্রস্তাব দেন বিরোধীদলীয় নেতাকে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তারা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছেন, জুলাই জাতীয় সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে তার প্রতিটি শব্দকে তারা সম্মান করেন। কিন্তু জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে আরোপিত কোনো আদেশ দিয়ে, কোনো অবৈধ আদেশ দিয়ে সংবিধান সংশোধন করা যায় কি না, সেটা একটা বিশাল আইনি প্রশ্ন, সাংবিধানিক প্রশ্ন। তিনি সেটা নিয়েও বিতর্ক ও আলোচনার আহ্বান জানান। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উদ্দেশ্যে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, আপনি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন দ্য স্পট সলিউশন দেয়া যায় না। এটার জন্য আপনি নোটিশ দেবেন। নোটিশ পাওয়ার পর আমি সিদ্ধান্ত দেবো।
পরে প্রেসিডেন্টের ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেন, বিপ্লবী ছাত্র-জনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হলো জুলাই সনদ। আমরা দেখেছি জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং এনসিপিসহ অধিকাংশ দল এতে সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং স্বাক্ষর করে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেই বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যে ঐতিহাসিক গণভোট হয়েছে, দেশের মানুষ গণভোটে যে রায় দিয়েছে- বিএনপি সেই রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে দেশের মানুষকে চরমভাবে হতাশ করেছে।
মাসুদ সাঈদী বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রকাশিত হয়েছিল, সেখানে বিএনপি’র মতো বৃহৎ একটি রাজনৈতিক দল শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়ায় জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি জুলাই সনদে বিশ্বাসী কিনা, গণ-অভ্যুত্থান এবং গণআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল কিনা- জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করে নতুন এক বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে কিনা, এসব প্রশ্ন জনমনে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। আমরা আশা করি, সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিএনপি জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ এবং গণভোট ২০২৬-এর গণরায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে। তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘জুলাই আবেগ নয়, আবেগ দিয়ে রাষ্ট্র চলে না’। জুলাই আবেগ নয়, এই কথা সত্যি। কিন্তু জুলাই আবেগ এবং জুলাই একইসঙ্গে বাস্তবতা। আবেগ বলে জুলাইকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
সংসদে প্রেসিডেন্টের ভাষণ দেয়ায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন বরগুনা-১ আসনে সাংসদ আলহাজ মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ। একইসঙ্গে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিস্ট বলার জন্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে প্রেসিডেন্টের ভাষণ ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছেন সরকারি দলের এমপিরা।
১৩৩ অধ্যাদেশ পাঠানো হলো সংসদের বিশেষ কমিটিতে
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। এগুলো পর্যালোচনা করে আগামী ২রা এপ্রিলের মধ্যে কমিটিকে সংসদে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। সংসদে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। পরে অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট কোনো অধ্যাদেশ জারি করলে এরপর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে ওই অধ্যাদেশ তুলতে হয়। সে অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো সংসদে তুলেছিলেন আইনমন্ত্রী।
এক ছাতার নিচে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন জানিয়েছেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত সুবিধাভোগীদের সমন্বিতভাবে একই ছাতার আওতায় আনার চেষ্টা করা হবে। সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের অনুপস্থিতিতে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন। কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ফারজানা শারমীন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত ভাতা সরবরাহ পর্যায়ে নানা অনিয়মের খবর পাওয়া যায়। অনেকের কাছে টাকা দাবি করা হয়। এটা অবশ্যই একটি দুর্নীতি। সরবরাহ কার্যক্রমের বিষয়টি যতটা সম্ভব স্বচ্ছতার মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা থাকবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড নামে বড় একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ক্রমান্বয়ে একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে সব সুবিধাভোগীকে একটি পরিবারের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত সময় তালিকা তৈরিতে অনেক স্বজনপ্রীতি করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ভাতা পাওয়ার যোগ্য প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করছে। বিদ্যমান তালিকা যাচাই করে এটা করা হবে, এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়েছে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ভাতার তালিকা যাচাই বাছাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করতে বিগত সময়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেয়া ‘অবৈধ ও মনগড়া’ কর্মসূচিগুলো সংশোধন করা হবে বলেও জানান তিনি।
সংসদে শব্দযন্ত্র নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যের ক্ষোভ
জাতীয় সংসদের শব্দযন্ত্র (সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোন) নিয়ে অধিবেশনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করেন, একটা বাজেট করে ওখান থেকে লুটপাট বাহিনীরা একটা বিল করে খাওয়ার জন্য এ ব্যবস্থা করেছে। সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শাহজাহান চৌধুরী এ কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার প্রথম দিনই সংসদ কক্ষে মাইক-বিভ্রাট দেখা দিয়েছিল। এ জন্য অধিবেশনের কার্যক্রম কিছু সময় বন্ধ রাখা হয়েছিল। গতকাল অধিবেশনের কার্যক্রম শুরুর একপর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী স্পিকারের উদ্দেশে বলেন, আমাদের হাউজে সাউন্ড সিস্টেমটা, আমরা তো আরও দু’বার সংসদে এসেছি, আপনিও এসেছেন, কিন্তু এত বড় একটা বোঝা মাথার ওপর দিয়ে এক-দুই ঘণ্টা বসা সবার জন্য কষ্টকর হচ্ছে। এ সময় তিনি হেডফোন কান থেকে হাতে নিয়ে দেখান। তিনি বলেন, এত বড় বোঝার প্রয়োজন নেই। তিনি সংসদের সাউন্ড সিস্টেম ভালো করার আহ্বান জানান, যাতে একটি সাধারণ হেডফোন বা হেডফোন ছাড়াও সংসদ সদস্যরা শুনতে পান, সে ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

M J Hussain
৪ মাস আগেAny act violating the constitution is illegal, unconstitutional. Any new act, change must be done through constitutional procedure. Peoples representative MPs who are responsible to safe guard constitution and law are engaged in violating the constitution and law, that is not desirable. Some MPs want to go on the street against constitution and law and create violence, onslaughts and disturb the normal life of general people.
General people wont allow the unruly element to disturb normal life. Whatever MPs want to do do in parliament/ Dont disturb us on the street.