ধ্বংসস্তূপের গাজায় ফিরলো ফুটবল, দুই বছর পর প্রথম টুর্নামেন্ট

ধ্বংসস্তূপের গাজায় ফিরলো ফুটবল, দুই বছর পর প্রথম টুর্নামেন্ট

ফন্ট সাইজ:

গাজা সিটি এখন ধ্বংসস্তূপের স্তূপ। বড় স্টেডিয়ামগুলো এখন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়ন শিবির। সেই ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেই দ্রুত পরিষ্কার করা একটি ছোট টার্ফে ফুটবল ফিরেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায়। দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় পর সেখানে শুরু হয়েছে প্রথম কোনো সংগঠিত ফুটবল টুর্নামেন্ট।

গাজা সিটির তাল আল-হাওয়া জেলার ‘প্যালেস্টাইন পিচ’ এখন চারদিকে ধসে পড়া কংক্রিটের দেয়াল আর ধ্বংসাবশেষ দিয়ে ঘেরা। সেই জীর্ণ পাঁচজনী (ফাইভ-এ-সাইড) ফুটবল মাঠে জাবালিয়া ইয়ুথ মুখোমুখি হয়েছিল আল-সাদাকার। পরের ম্যাচে লড়েছে বেইত হানুন ও আল-শুজিয়াইয়া। ম্যাচ দুটি ড্র হলেও দর্শকদের উল্লাস ছিল বাঁধভাঙা। কেউ ভাঙা দেয়ালে চড়ে, কেউ বা ধ্বংসস্তূপের ফুটো দিয়ে খেলা দেখছিলেন। কারো হাতে ছিল ড্রাম, কেউ আবার তারজালি ধরে প্রিয় দলকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন।

জাবালিয়া ইয়ুথের ২১ বছর বয়সী খেলোয়াড় ইউসুফ জেন্দিয়া নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি একই সাথে আনন্দিত এবং দুঃখিত। সকালবেলা মানুষ খাবার, পানি আর রুটির সন্ধানে ছোটে। জীবন এখানে অনেক কঠিন। তার মাঝেও দিনের কিছুটা সময় ফুটবল খেলে আমরা ভেতরের আনন্দটুকু প্রকাশ করার চেষ্টা করি।’
তবে সতীর্থদের হারানোর শোক তাকে তাড়া করে ফিরছে। তিনি বলেন, ‘স্টেডিয়ামে এলে অনেক সতীর্থের কথা মনে পড়ে, যারা আজ নেই। কেউ মারা গেছেন, কেউ আহত, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে। তাই এই আনন্দটা অপূর্ণই থেকে যায়।’

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রায় দুই বছর পর গত চার মাস আগে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। যদিও গাজার পুনর্গঠন কাজ এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। গাজা সিটির ৯ হাজার আসন বিশিষ্ট ইয়ারমুক স্টেডিয়ামটি ইসরায়েলি বাহিনী গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর এখন সেখানে তাঁবু খাটিয়ে বাস করছে ঘরহীন পরিবারগুলো। এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে একটি অর্ধেক আকৃতির মাঠ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরাতে হয়েছে। বেইত হানুন দলের খেলোয়াড় আমজাদ আবু আওদা (৩১) বলেন, ‘আমরা এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে বিশ্বকে বার্তা দিতে চাই যে—ধ্বংসযজ্ঞ বা যুদ্ধ যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা খেলা চালিয়ে যাব। জীবন থেমে থাকবে না, জীবন চলবেই।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন