একসময় ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই ছিল মাঠের লড়াই আর মাঠের বাইরে বন্ধুত্ব। কিন্তু সেই চিরাচরিত সৌহার্দ্য এখন বিষাক্ত রাজনৈতিক আর ব্যক্তিগত আক্রমণের কবলে পড়ে বিলীন হতে চলেছে। পাকিস্তানের কিংবদন্তি স্পিনার সাকলায়েন মুশতাক মনে করেন, দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে সেই পুরোনো বন্ধুত্ব আর কোনোদিন ফিরবে না। বিশেষ করে ভারতের কিছু সাবেক ক্রিকেটারের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং ঘৃণা ছড়ানোর মানসিকতা ক্রিকেটকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
একটি টকশোতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকলায়েন মুশতাক সরাসরি ভারতের সাবেক ক্রিকেটারদের কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সম্প্রতি ভারতের এক সাবেক খেলোয়াড় পাকিস্তানের আত্মসম্মান নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। তার নাম না নিয়ে সাকলায়েন বলেন, ‘যাদের নিজেদেরই কোনো সম্মান নেই, তারা আবার সম্মান নিয়ে কথা বলে কীভাবে?’ আমার মনে হয় তাদের সাধারণ কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহার করা উচিত। আপনি একজন সাবেক ক্রিকেটার, আপনি সবার হিরো। নক্ষত্র তো সবার জন্য আলো দেয়। হিরোদের অন্তত হিরোর মতো আচরণ করা উচিত।’
সাকলায়েন মনে করেন, দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা জিইয়ে রাখা হচ্ছে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে। তিনি বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা তাদের রাজনীতি করবেনই। কিন্তু আপনারা (সাবেক ক্রিকেটাররা) কেন এমন কথা বলছেন? আপনারা কি বোঝেন না যে আপনারা যখন চার মারেন বা উইকেট নেন, দুই পারের মানুষই তালি দেয়? আমার মনে হয় সীমান্তের ওই পারের মানুষগুলোর একটু বুদ্ধি হওয়া উচিত; তাদের আরও মার্জিতভাবে কথা বলা দরকার।’
১৯৮৭ সালে জাভেদ মিয়াঁদাদের ভারতীয় দলের সঙ্গে হোলি খেলা কিংবা ২০২১ বিশ্বকাপে কোহলি-রিজওয়ানের সেই আলিঙ্গন-ক্রিকেট যে বিভেদ মোছার হাতিয়ার ছিল, তা মনে করিয়ে দেন সাকলায়েন। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে তিনি হতাশ। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না সেই পুরোনো দিনগুলো আর ফিরে আসবে। পরিস্থিতি অনেক দূর গড়িয়ে গেছে। অপরপক্ষ চায় না সেই দিনগুলো ফিরুক; তারা নিজেদের রাজনীতি চাঙ্গা রাখতে এই বৈরিতা টিকিয়ে রাখছে।’
আইসিসির রাজস্বে ভারতের অবদান এবং ক্রিকেটের অর্থনীতি ভারত একাই নিয়ন্ত্রণ করে-এমন দাবির তীব্র সমালোচনা করেন সাকলায়েন। তিনি একে ‘অহংকার’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘টাকা আসে এবং ভাগ হয়। কিন্তু তারা প্রায়ই বলে বেড়ায়, আমরা যা আয় করি তা আইসিসিকে দেই, আর তোমরা সেখান থেকে বসে খাও। তারা এমন আচরণ করে যেন অন্যদের কিছুই নেই। দিন দিন তাদের এই দম্ভ বাড়ছেই।’

সৈয়দ নজরুল হুদা
৩ মাস আগেভারতের এই নোংরামি তাদের জাতীয় অহংকার। বিজেপি শাসনের পর থেকে তাদের সাম্প্রদায়িক নোংরামি মাত্রা ছাড়াচ্ছে,যা দেশের ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।।