সিলেটে ওভারসিজ সেন্টার নিয়ে যা হচ্ছে

ফন্ট সাইজ:

জায়গাটিকে বলা হয় ‘গোল্ড’। একেবারেই নগরের কেন্দ্রে জিন্দাবাজারে। মার্কেট নিয়ে শুরু হয়েছে নাটকীয়তা। মার্কেটের মালিক সিলেটের জেলা প্রশাসক। সিলেটের বর্তমান জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম মার্কেট ভেঙে ফেলতে খুবই এক্টিভ। এটাও ঠিক, মার্কেটটি পুরনো। চল্লিশ বছরের ওপর বয়স মার্কেটের। তিন তলাবিশিষ্ট। এটি ভেঙে বড় প্রকল্প করতে লাভ সবারই হবে। কিন্তু মার্কেট ছাড়তে রাজি নয় বর্তমানে ইজারায় থাকায় ব্যবসায়ীরা। ভাঙার পক্ষেও নয় তারা। তাদের দাবি হচ্ছে; ভেঙে ফেলার আগে তাদের লিজের নবায়ন করতে হবে। আর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ব্যবসায়ীদের দিতে হবে ক্ষতিপূরণও। এ নিয়ে গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করেন মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। এতে তারা উল্লেখ করেন, ২০১৯ সালে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রণীত নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ২৫ ভবনের তালিকায় ওভারসিজ সেন্টার মার্কেটের নাম ছিল না।

অথচ এখন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ দেখিয়ে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহিদুল ইসলাম মাহিদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মার্কেটটিতে গত ৪২ বছর ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা লিজগ্রহীতারা বর্তমানে মানবিক, আর্থিক ও আইনি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ভবন উন্নয়নের বিরোধিতা তাদের নেই, তবে উচ্ছেদের আগে স্থায়ী লিজ, পর্যাপ্ত সময় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ১৯৭৮ সালের ২রা সেপ্টেম্বর তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার ট্রাস্ট গঠিত হয় এবং একই বছরের ২রা অক্টোবর ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ট্রাস্টের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিচতলার ১৫টি দোকান কক্ষ দীর্ঘমেয়াদি লিজে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ১৯৮২ সালে ভবন উদ্বোধনের পর প্রবাসী ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী উচ্চমূল্যে দোকানকক্ষ লিজ নেন। সর্বোচ্চ একটি দোকানকক্ষ দুই লাখ ১০ হাজার টাকা সালামি দিয়ে লিজ নেয়া হয় এবং দোকানগুলোর ডেকোরেশনও লিজগ্রহীতারা নিজ খরচে সম্পন্ন করেন। সে সময় নিলামের মাধ্যমে ২০ বছরের জন্য লিজ দেয়া হয় এবং ভবিষ্যতে স্থায়ী লিজ দেয়ার মৌখিক আশ্বাস দেয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

মাহিদ জানান, ১৯৮২ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত লিজের মেয়াদ শেষ হলেও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে ভাড়া গ্রহণ অব্যাহত থাকে। ২০০৩ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত একাধিকবার স্থায়ী লিজের আবেদন করা হলেও কোনো লিখিত লিজ ডিড দেয়া হয়নি। তবে ২০১০ সালে বাংলাদেশ ওভারসিজ সেন্টার ট্রাস্টের ১০৯তম সভায় তৎকালীন জেলা প্রশাসক, ট্রাস্টি বোর্ড ও লিজগ্রহীতাদের উপস্থিতিতে স্থায়ী লিজ নবায়নের সিদ্ধান্ত হয় এবং প্রতি বর্গফুট ৮ টাকা হারে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিতপত্রে লিজ নবায়নের বিষয়টি জানানো হলেও আজ পর্যন্ত লিখিত লিজ ডিড দেওয়া হয়নি। ব্যবসায়ীদের দাবি- ২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও লিজ ডিড প্রদান করা হয়নি, তবে নিয়মিত ভাড়া গ্রহণ করা হয়েছে। অধিকাংশ লিজগ্রহীতা ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং কেউ কেউ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলেও জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হঠাৎ ভাড়া বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুট ৮ টাকার পরিবর্তে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরে ৩০ ডিসেম্বর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সব লিজ বাতিল এবং ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে দোকান খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়। এ অবস্থায় দোকান মালিকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করলে ৩রা ফেব্রুয়ারি আদালত জেলা প্রশাসককে শোকজ করে রুল জারি করেন এবং বিশেষজ্ঞ মতামত ছাড়া ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চান। তবে রুল জারি থাকা সত্ত্বেও দোকান ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ভবন উন্নয়নের বিরোধিতা তাদের নেই।

তবে ভবন ভাঙার আগে ট্রাস্টের ১০৯তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমান লিজগ্রহীতাদের লিখিত স্থায়ী লিজ বা মালিকানা দিতে হবে। উচ্ছেদের ক্ষেত্রে অন্তত এক বছর সময় দিতে হবে এবং উন্নয়নকালীন সময়ে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। ব্যবসায়ীরা সরকার, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আদালতের নির্দেশনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে উচ্ছেদ ও ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং দীর্ঘদিনের লিজগ্রহীতাদের ন্যায্য অধিকার সংরক্ষণের দাবি জানান।

এদিকে সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তার পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেছেন- প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। তাদের জটিলতা নিরসনে সিলেটের মতো অঞ্চলে একটি আধুনিক সেবাকেন্দ্র থাকা জরুরি। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে- ভবনটি অনেক আগেই ব্যবহারের মেয়াদ হারিয়েছে। নির্মাণ বিশেষজ্ঞদের মতে এটি ভূমিকম্পের ঝুঁঁকিতে রয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের পরপরই ভবনটি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হতে পারে। জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম ইতিমধ্যেই সরজমিন ভবনটি পরিদর্শন করে ব্যবসায়ীদের দ্রুত দোকান খালি করার নির্দেশনা দিয়েছেন।


খসরু জ্জামান জালালাবাদী

৪ মাস আগে

যেহেতু ২০ বছরের জন‍্য লিজ দেওয়া হয়েছে তাই ২০ বছর পরে লিজ গ্রহিতার আর দাবী থাকতে পারে না উনি ২০ বছর ব‍্যবসা করবেন বলে সাক্ষর করে লিজ নিয়েছেন তবে যদি নতুন ভবন তৈরী হয পুরাতন লিজ গৃহিতার অগ্রাধিকার বেশী লিজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ।

মন্তব্য করুন