হিযবুত তওহীদের দুই সদস্য হত্যা

১০ বছরেও বিচার হয়নি, মামলা প্রত্যাহারে ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে চোখ উপড়ে, হাত-পায়ের রগ কেটে প্রকাশ্যে গলা কেটে হত্যার ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। একইসঙ্গে মামলাগুলো রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। গতকাল দুপুরে উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার ও সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হিযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি ২০১৬ সালের সোনাইমুড়ীর পোরকরা গ্রামে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উস্কে দিয়ে হিযবুত তওহীদের সদস্যদের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আঙিনায় নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে তা ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালায়। পরে বাড়িগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ১৮টি মোটরসাইকেল, গোলার ধান, গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নেয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন। মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ওইদিন মসজিদ নির্মাণের কাজে আসা সংগঠনের দুই সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তাদের চোখ তুলে নেয়া হয় এবং হাত-পায়ের রগ কেটে দেয়া হয়। পরে লাশে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে আলামত নষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।
তিনি বলেন, ‘এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার দুই বছর পর একটি মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেয়া হয়নি। আসামিরা এখনো ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি সরকার রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর মধ্যে এ ঘটনায় দায়ের করা জিআর-৬১৭/১৬, জিআর-৮১২/১৬, জিআর-৬৮১/১৬ ও জিআর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। কারা হত্যা করেছে, কারা অর্থায়ন করেছে এবং কারা মিছিল করে হামলা চালিয়েছে তার প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ সংশ্লিষ্টদের নাম-ঠিকানা আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। এসব আসামিদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া উচিত নয়। তিনি দ্রুত প্রকৃত তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার আহ্বান জানান। তবে তিনি পুনরায় হামলার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন। তার দাবি, একটি উগ্রবাদী ধর্মব্যবসায়ী গোষ্ঠী এখনো বিভিন্ন সময় এলাকায় বেআইনি সমাবেশ করে হামলার হুমকি দিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্যসহ ঘটনার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন