জামালপুরে সাবেক সেনাসদস্য হত্যা রহস্যাবৃত

ফন্ট সাইজ:

জামালপুরে সাবেক সেনাসদস্য হাবিবুর রহমান (৬৯) কে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিখোঁজের দুইদিন পর ব্রহ্মপুত্র নদের বালুচর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য এখনো উদ্ঘাটন হয়নি। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের আসামি করে জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৫৫)।
জানা যায়, নিহত হাবিবুর রহমান জামালপুর পৌরসভার সকাল বাজার এলাকার আইকন ফার্নিচারে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় চার মাস আগে তিনি চাকরি ছেড়ে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। গত ২১শে অক্টোবর (বুধবার) ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে ফজরের নামাজ শেষে বাড়ি থেকে বের হন হাবিবুর রহমান।

এরপর দিন পেরিয়ে রাত হলেও তিনি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে সবগুলো নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। এরপর ২৩শে অক্টোবর নরুন্দি ইউনিয়নের নামা কোচনধারা সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড়ে মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান স্বজনরা। ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে ২৪শে অক্টোবর বাদ মাগরিব পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২১শে অক্টোবর ভোর ৬টা থেকে ২৩শে অক্টোবর সকাল ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা হাবিবুর রহমানকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের বালুচরের পানিতে ফেলে রাখে। স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় এজাহার দায়ের করতে বিলম্ব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন বাদী। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব জানান, আমাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত রয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলা রহস্য উদ্ঘাটন হবে।