টেকনাফে পাচারের সময় ৯ রোহিঙ্গা উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

মালয়েশিয়ায় ভালো চাকরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধারণ মানুষসহ রোহিঙ্গাদের পাহাড়ে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব চক্রের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এর অংশ হিসেবে কক্সবাজারের টেকনাফের গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানায় যৌথ অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ।

অন্যদিকে, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের চেষ্টাকালে ৯ জনকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অনুসন্ধানে জানা যায়, মালয়েশিয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দালালচক্র দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে লোকজনকে সংগ্রহ করে। পরে তাদের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে বন্দি রেখে নির্যাতন চালিয়ে স্বজনদের কাছে দাবি করা হয় মুক্তিপণ। মেরিন ড্রাইভের প্রায় ৬০ কিলোমিটার উপকূলের অরক্ষিত ঘাট ও দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে এই অপকর্ম চালানো হয়। গত ৫ ও ৭ই নভেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে মানবপাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে আস্তানা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া, ছয়জন দালালকে আটক করে আস্তানা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। অভিযানে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর একজন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এদিকে, গত শনিবার টেকনাফের লম্বরীঘাট এলাকায় সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) জানায়, গোপন সংবাদে দক্ষিণ লম্বরীঘাট উপকূলীয় এলাকায় বিজিবি’র একটি বিশেষ দল অভিযান পরিচালনা করে। তবে অভিযানের সময় পাচারচক্রের ১০-১৫ জন সদস্য পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ৯ জনকে উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃতদের মধ্যে দুইজন কিশোর ও একজন কিশোরী রয়েছে। তারা কক্সবাজার সদর, চকরিয়া, মহেশখালী, উখিয়া এবং বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।