খুলনায় চাঁদাবাজদের টার্গেটে ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফন্ট সাইজ:

খুলনায় সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজদের টার্গেটে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। গত দুই সপ্তাহে ৩টি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর এবং একটিতে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ের মধ্যে একটির চিকিৎসককে প্রকাশ্য অস্ত্র দিয়ে হুমকিও প্রদর্শন করে তারা। এ ছাড়া বন্ধ রয়েছে একটি ওষুধ বিক্রয় প্রতিষ্ঠান। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নগরের শীর্ষ এক সন্ত্রাসীর একান্ত সহযোগীর শ্বশুরের চিকিৎসার জন্য বাবুখান রোডের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে যান। কিন্তু কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় ২৪শে অক্টোবর রাতে দুর্বৃত্তরা সেখানে হামলা চালায়। তারা দু’জন চিকিৎসকের রুম, কাউন্টার এবং একটি টিভি ভেঙে ফেলে। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য তারা সেখানে গুলি করে।

এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে পরদিন সকালে একই মালিকের অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে দুর্বৃত্তরা সশস্ত্র মহড়া দেয়। ওইদিন তারা সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকের ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ঘটনা ছাড়াও খুলনার ওই শীর্ষ বাহিনীর প্রধানকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালু রাখা হয়েছে।

গত ৩রা নভেম্বর সন্ধ্যায় নগরীর সমসুর রহমান রোডের আব্দুল্লাহ প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। ক্যান্সারের স্যাম্পল সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে এ হামলার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেলেও পরবর্তীতে চাঁদার বিষয়টি স্পষ্ট উঠে এসেছে। ভাঙচুর করে যাওয়ার সময় সন্ত্রাসীরা কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনার ৪ দিন পর সন্ত্রসীরা শনিবার দুপুরে খানজাহান আলী রোডের অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা চালায়। সম্প্রতি কারাগার থেকে বেরিয়ে একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর এক সদস্য প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপককে হুমকি দেয়। সেখানে বলা হয়, তাদের বাহিনী প্রধানের নাম শুনেছেন কি? উত্তরে তিনি বলেন, আমি তাকে চিনি না। তাকে চিনিয়ে দেয়ার জন্য এক মাস পরে এ হামলা বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভয়ে তারা থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। এ ছাড়া নগরীতে এমন আরও অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে, যাদের অনেকেই মানসম্মান ও প্রাণ ভয়ে নীরবে সন্ত্রাসীদের চাঁদা দিচ্ছেন।

এ ছাড়া নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের চয়নিকা ফার্মেসির ব্যবস্থাপককে ফোন করে হুমকি দেয় সন্ত্রাসীরা। ভয়ে ফার্মেসির ব্যবস্থাপক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনার পর থেকে মালিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। খুলনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. লোকমান হোসেন বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে হামলার ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। সন্ধানীর ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। ওই মামলায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তিনি আরও জানায়, শনিবার খানজাহান আলী রোডে অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলার ঘটনায়ও কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ করেনি। এ হামলার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সম্প্রতি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নগরীতে অপরাধমূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে। খুলনার নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক এডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনার প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চাঁদাবাজি, একের পর হামলা, ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। গত কয়েক মাস ধরে খুলনার যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে, এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। পুরোপুরি উদাসীন, প্রশাসন উদাসীন, সরকার উদাসীন। ফলে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীরা তাদের কার্যক্রম বেপরোয়া গতিতে চালাতে পারছে। এদের রুখতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।