বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফেনীর দাগনভূঞায় মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে উপজেলা শহরে কিছুক্ষণের জন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। রোববার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে দাগনভূঞা পৌর শহরের সরকারি ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজের সামনে থেকে র্যালি বের করে বিএনপি। এতে নেতৃত্ব দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোট ভাই উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক আকবর হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র্যালির আয়োজন করে উপজেলা ও পৌর বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। র্যালিটি শহরের সরকারি আতাতুর্ক আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় গেটে পৌঁছালে নিউ সুলতান মার্কেট ও জিরো পয়েন্টে বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় শহরের বিভিন্ন সড়কে যানবাহন থমকে দাঁড়ালে যানজটের সৃষ্টি হয়।
ধোঁয়ায় চারদিক আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে পথচারীরা দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। র্যালিটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আকবর হোসেন বলেন, দাগনভূঞার মাটিতে কোনো সন্ত্রাসীর স্থান হবে না। সব মান- অভিমান ভুলে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান আকবর হোসেন। র্যালি শেষে বিএনপি নেতাকর্মীরা কলেজ রোডের দিকে যাওয়ার সময় ফের মুহুর্মুহু ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, র্যালির আগে ও পরে অর্ধ শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ ছাড়া দুই শতাধিক লোক বিশেষ পোশাক, হেলমেট ও মাস্ক পরে লাঠি হাতে র্যালিকে সুরক্ষা দিতে দেখা যায়।
তাদের হাতে থাকা ব্যাগে বিশেষ কিছু ছিল। এ ছাড়া কয়েকজনের শরীরে অস্ত্র বহন করতে দেখার দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে ককটেল বিস্ফোরণে কারা জড়িত তা বলতে পারেনি কোনো প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ। এ নিয়ে দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমান জানান, শান্তিপূর্ণভাবে বিএনপি’র কর্মসূচি শেষ হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ কারা ঘটিয়েছে তা জানা নেই বলেও জানান তিনি। এক বছর আগেও ৫ই আগস্ট দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছিল। সে ঘটনায় পৃথক দু’টি মামলা আদালতে বিচারাধীন।
