বিগত ১৭ বছরের দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী শাসনামলে যারা রাজপথে থেকে দুর্বার আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এবং বর্তমান সরকারের খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। হাজারো বাধা-বিপত্তি, মামলা ও দমনপীড়ন উপেক্ষা করে যিনি কখনো মানিকগঞ্জের রাজপথ, আবার কখনো ঢাকার রাজপথে দলীয় নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছিলেন-ক্ষমতা পাওয়ার পরও তার সেই সাধারণ জীবনযাপন ও তৃণমূলের প্রতি নাড়ির টান বিন্দুমাত্র বদলায়নি।
ক্ষমতার দাপট বা অহংকার তাকে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ থেকে একটুও দূরে সরিয়ে নিতে পারেনি, বরং তিনি প্রমাণ করেছেন যে, প্রকৃত নেতৃত্ব চেয়ারে নয়, মানুষের হৃদয়ে অবস্থান করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সচরাচর দেখা যায়, মন্ত্রী কিংবা উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ বিলাসবহুল গাড়িবহর ও কঠোর ভিআইপি প্রটোকল নিয়ে মঞ্চের আলো ছড়াতে ভালোবাসেন। কিন্তু আফরোজা খানম রিতা এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক শোভাযাত্রায় এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলেছে। যে কর্মসূচিতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে লাখো জনতার বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
সেখানে খাদ্যমন্ত্রী রিতা কোনো বিশেষ প্রটোকল বা মঞ্চের নিরাপদ দূরত্ব বেছে নেননি। ঢাকার কাকরাইল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত দীর্ঘ পথ তিনি কোনো গাড়িতে চড়েননি। হাতে দলীয় পতাকা নিয়ে মানিকগঞ্জ থেকে আসা হাজার হাজার রাজপথের সৈনিক ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে পুরো পথ তিনি হেঁটেছেন সাধারণ কর্মীর মতো। ক্ষমতার মোহ ও পদের অহংকারকে দূরে ঠেলে দিয়ে রিতার এমন সরব ও সাবলীল উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে জাদুকরী উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ দুঃশাসনের জমানায় যখন রাজপথে টিকে থাকা ছিল চরম চ্যালেঞ্জিং, তখনো আফরোজা খানম রিতা ছিলেন মানিকগঞ্জের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আস্থার এক নিরাপদ আশ্রয়। অন্যায়ের কাছে কখনোই মাথা নত না করা এই নেত্রী মন্ত্রী হওয়ার পরও তার সেই আদর্শিক অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েননি।
মন্ত্রিত্বের জাঁকজমক তাকে স্পর্শ করতে পারেনি, আগের মতো আজও তিনি নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে সমানভাবে পাশে রয়েছেন। কাকরাইল থেকে মানিক মিয়া এভিনিউ পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রীর এই দীর্ঘ পদযাত্রা এবং তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে তার এই নিবিড় সম্পৃক্ততা মানিকগঞ্জের রাজনীতিতে প্রাণের সঞ্চার করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, আফরোজা খানম রিতাকে কেবল মানিকগঞ্জেই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতিতেও এক অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে। দলের প্রতি তার আত্মত্যাগ, আপসহীন মনোভাব এবং শেকড়ের সঙ্গে জুড়ে থাকার এই অনন্য নজির বিএনপি’র রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। আফরোজা খানম রিতা মানবজমিনকে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুপ্রেরণায় নিজের পুরো জীবন রাজনীতিতে সঁপে দিয়েছি। তিনি বলেন, আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি কখনো দলীয় আদর্শকে বিন্দুমাত্র উপেক্ষা করিনি। জীবনে কখনোই কোনো অন্যায় করিনি এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনো আপসও করিনি। আমি মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। আমার মানিকগঞ্জের দলীয় নেতাকর্মীরা ভালো থাকলে আমিও ভালো থাকবো।
আওয়ামী লীগের শাসনামলের দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রাম ও ত্যাগের কথা স্মরণ করে আফরোজা খানম রিতা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসনে শত ঝড়-ঝাপটা উপেক্ষা করে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছি, রাজপথে আন্দোলন করেছি এবং সফল হয়েছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানুষের সেবা করে যেতে চাই। তিনি আরও বলেন, রাজনীতির এই পথচলা আমার জন্য নতুন কিছু নয়, আমার বাবাও একসময় সফলভাবে রাজনীতি করেছেন। তিনি জনগণের ভালোবাসায় চারবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন এবং সফলভাবে মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। সেই বাবার সন্তান আমি। বাবার আদর্শ আর শহীদ জিয়ার দেশপ্রেমকে সঙ্গী করেই আমি সবসময় সাধারণ মানুষের অধিকার ও দলের স্বার্থ রক্ষায় অবিচল থেকেছি।
