ইত্যাদির দৃশ্যধারণ অনুষ্ঠানে ২০০ মোবাইল চুরি, আটক ১

ইত্যাদির দৃশ্যধারণ অনুষ্ঠানে ২০০ মোবাইল চুরি, আটক ১

ফন্ট সাইজ:

জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র আনন্দে মেতেছিলেন প্রায় ১০ হাজার দর্শক। আর সেই জনসমাগমের সুযোগ নিয়ে পকেটমার চক্রের সদস্যরা চালিয়েছে চুরির উৎসব। জয়পুরহাটের কালাইয়ে অনুষ্ঠান দেখতে এসে দুই শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গোলাম রতন (৪৭) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপজেলার ঐতিহাসিক নান্দাইলদীঘি পাড়ে নান্দাইলদীঘি কলেজ মাঠে বিটিভি’র জনপ্রিয় অনুষ্ঠানটির দৃশ্যধারণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় ১০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। নিরাপত্তায় আড়াই শতাধিক পুলিশ সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, ৫০ জন স্কাউট ও স্থানীয় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করলেও মোবাইল চুরির ঘটনা ঠেকানো যায়নি। আটক গোলাম রতন জয়পুরহাট সদর উপজেলার ভাদসা এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অনুষ্ঠান উপভোগ ও ছবি-ভিডিও ধারণে ব্যস্ত থাকার সুযোগে ভিড়ের মধ্যে কৌশলে তাদের পকেট ও ব্যাগ থেকে মোবাইল সরিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা। অনুষ্ঠান শেষে অনেকেই ফোনে কল দিয়ে বন্ধ পান। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাদের মতো অসংখ্য দর্শকের মোবাইল চুরি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ফাহিম শুভ বলেন, অনেক আগ্রহ নিয়ে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলাম। ছবি তুলতে গিয়ে একসময় দেখি পকেটে মোবাইল নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাইনি। সুমাইয়া আফরীন বলেন, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠান দেখতে এসেছিলেন। ভিড়ের মধ্যে কখন মোবাইল নিয়ে গেছে বুঝতেই পারেননি। ফোন হারিয়ে ব্যক্তিগত ছবি, যোগাযোগের নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য হারানোর আশঙ্কাও করছেন তিনি। দর্শনার্থী আনোয়ার হোসেন বলেন, এত পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবক থাকার পরও শত শত মানুষের মোবাইল চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক। আটক ব্যক্তির পাশাপাশি পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

কালাই থানার তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠান শেষে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সবার লিখিত অভিযোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। কালাই থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ইমায়েদুল জাহেদী বলেন, চুরি যাওয়া মোবাইলের সংখ্যা ১৫০ থেকে ২০০টিরও বেশি হতে পারে বলে তাদের ধারণা। অনুষ্ঠানস্থল থেকে মোবাইল ও টাকা চুরির অভিযোগে গোলাম রতনকে আটক করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কালাই উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, এত বড় নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও বিপুলসংখ্যক দর্শকের মোবাইল চুরির ঘটনা দুঃখজনক। আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি চুরির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।