হাঁটুর হাড়ের সঙ্গে হাড়ের সংযুক্তি ক্ষতি হলে

ফন্ট সাইজ:

হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি হলো হাঁটুর লিগামেন্টগুলোর (যা হাড়কে হাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে) ক্ষতি হওয়া। এটি সাধারণত আঘাত, মোচড় বা অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হয়ে থাকে। প্রাথমিক চিকিৎসা, বিশ্রাম, বরফ, কম্প্রেশন এবং উচ্চতা (জওঈঊ) পদ্ধতির মাধ্যমে করা যেতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে, অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি হলো:
হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি হলো হাঁটুর লিগামেন্টগুলোর ক্ষতি বা ছিঁড়ে যাওয়া। লিগামেন্ট হলো শক্তিশালী টিস্যু যা হাড়কে হাড়ের সঙ্গে সংযুক্ত করে এবং হাঁটুকে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। যখন লিগামেন্টগুলো অতিরিক্ত প্রসারিত বা ছিঁড়ে যায়, তখন তাকে লিগামেন্ট ইনজুরি বলা হয়।
কারণ:
আঘাত: খেলাধুলা বা দুর্ঘটনার কারণে হাঁটুতে সরাসরি আঘাত লাগলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে।
মোচড়: হাঁটু মুচড়ে গেলে বা বাঁক খেলে লিগামেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বিশেষ করে যখন পায়ের পাতা স্থির থাকে এবং শরীর মোচড় খায়।
অতিরিক্ত ব্যবহার: বারবার একই ধরনের নড়াচড়া করলে বা অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করলে লিগামেন্ট দুর্বল হয়ে যেতে পারে এবং ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে।
অন্যান্য আঘাত: আঘাতের কারণে হাঁটুর অন্যান্য অংশ যেমন কার্টিলেজ বা মেনিস্কাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা পরোক্ষভাবে লিগামেন্টেও প্রভাব ফেলে।
লক্ষণ:
ব্যথা: আঘাত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা অনুভব হতে পারে এবং পরে ব্যথা কমতে পারে। তবে হাঁটতে বা ওজন নিতে গেলে ব্যথা বেড়ে যায়।
ফোলা: আঘাতের স্থানে ফোলাভাব দেখা যেতে পারে।
অস্থিরতা: হাঁটুতে অস্থিরতা বা দুর্বলতা অনুভব হতে পারে, মনে হতে পারে হাঁটু বেঁকে যাচ্ছে।
গড়ন: হাঁটুর স্বাভাবিক মুভমেন্ট কমে যেতে পারে।
পপিং শব্দ: কিছু ক্ষেত্রে, আঘাতের সময় পপিং বা কট করে শব্দ হতে পারে।
চিকিৎসা:
প্রাথমিক চিকিৎসা (জওঈঊ):
বিশ্রাম: আঘাতপ্রাপ্ত হাঁটুতে চাপ না দেয়া।
বরফ: বরফের প্যাক দিয়ে সেঁক দেয়া, যা ফোলা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
কম্প্রেশন: একটি ইলাস্টিক ব্যান্ডেজ দিয়ে হাঁটুতে হালকা চাপ দিয়ে বেঁধে রাখা।
উচ্চতা: হাঁটুকে হৃৎপিণ্ডের চেয়ে উপরে তুলে রাখা।
ওষুধ:
ব্যথানাশক: ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে ওষুধ দেয়া যেতে পারে।
ইনজেকশন: কিছু ক্ষেত্রে, স্টেরয়েড ইনজেকশন দেয়া হয়।
ফিজিওথেরাপি:
ব্যায়াম: হাঁটুর শক্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ফিজিওথেরাপি করানো হয়।
বিভিন্ন থেরাপি: যেমন আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি, ম্যানুয়াল থেরাপি।
অস্ত্রোপচার:
* যদি লিগামেন্ট সম্পূর্ণ ছিঁড়ে যায় বা অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি কাজ না করে, তবে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
* অস্ত্রোপচারে লিগামেন্ট প্রতিস্থাপন করা হয়।
* আর্থোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে চিকিৎসা
মনে রাখবেন, সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।


লেখক: সাবেক অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা। চেম্বার: বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লি., শ্যামলী, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৭। হটলাইন-১০৬৩৩, ০১৭৪৬৬০০৫৮২