ফেনীর পরশুরাম সীমান্তের কহুয়া নদীর নিজেদের অংশে বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে সিমেন্ট ও কংক্রিটের (সিসি) ব্লক বসানোর কাজ শুরু করেছে ভারত। এতে দেশটির অংশে সুরক্ষা কাজ দ্রুত এগোলেও বাংলাদেশের অংশের বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারকাজ অসম্পূর্ণ থাকায় তীব্র ভাঙন ও বন্যার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাংলাদেশের অংশের বাঁধ দ্রুত ও মজবুত করা না হলে উত্তর পরশুরাম উপজেলার কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া, বাসপদুয়া ও পরশুরাম বাজারসহ বিস্তীর্ণ এলাকা মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে। তথ্যমতে, ভারতের বিলোনিয়াসংলগ্ন আমজাদনগরে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সকাল থেকে ব্লক বসানোর কাজ শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে পরশুরামের উত্তর কোলাপাড়ার খিলপাড়া এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে জড়ো হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর কোলাপাড়ায় কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ২০০৩ সালে প্রায় ২৫ হাজার সিসি ব্লক তৈরি করা হয়েছিল।
গ্রামের রেললাইন সেতুর পূর্ব পাশে এসব ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বাধার মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা বাংলাদেশ অংশে বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হলেও ভারতের আপত্তিতে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ২০২৪ সালে বল্লামুখা বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিলে কোলাপাড়া ও নিজ কালিকাপুরে তৈরি করা সিসি ব্লকের কিছু অংশ সেখানে সরিয়ে নিয়ে ব্যবহার করা হয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ২১৬৩ নম্বর পিলারের উভয় পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ভারতের বিলোনিয়া-সংলগ্ন আমজাদনগরে ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের পরশুরাম বাজার-সংলগ্ন উত্তর কোলাপাড়ায় ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারে উভয়পক্ষ সম্মত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর উত্তর কোলাপাড়া মাজারবাড়ি কবরস্থানসংলগ্ন কহুয়া নদীর ২৫০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো সেই কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, এর বাইরেও আরও প্রায় ২০০ মিটার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের বাইরে রয়ে গেছে। উপজেলা বিআরডিবি’র চেয়ারম্যান আবু তালেব রিপন জানান, বাংলাদেশের বেড়িবাঁধের তুলনায় ভারতের বাঁধ প্রায় চার ফুট উঁচু ও অধিক টেকসই। দ্রুত বাঁধ মেরামত করা না হলে উত্তর কোলাপাড়া, দক্ষিণ কোলাপাড়া ও পরশুরাম বাজার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে তিনি ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু ও পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, কহুয়া অত্যন্ত ছোট নদী। ভারতীয় অংশে সিসি ব্লক বসানোর কাজ চললে নদীর গতিপথ বাংলাদেশের অংশের দিকে ঝুঁকে যাবে। এতে বাংলাদেশ অংশে বাঁধ নির্মাণে বেগ পেতে হবে। তাই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। ফেনীস্থ ৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসিবুল ইসলাম মানবজমিনকে জানান, ভারত ব্লক বসানোর কাজ শুরু করলে বিষয়টি বাংলাদেশকে জানানোর কথা। না জানিয়ে শুরু করার তথ্য পেয়ে তাদের কাজ বন্ধের অনুরোধ জানিয়েছি। বর্তমানে কাজ স্থগিত রয়েছে বলেও জানান বিজিবি’র এ কর্মকর্তা।
