দেশের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপে এক হাজার ৫০টির বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদেও নির্বাচন আয়োজন করা হবে। একই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে নতুন উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবছে ইসি। ছয় বছর বয়স থেকেই নাগরিকদের এনআইডির তথ্য নিবন্ধনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ডেটাবেইজ তৈরির চিন্তা করছে কমিশন। রোববার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ।
তিনি বলেন, ছয় বছর বয়স থেকেই এনআইডির তথ্য নিবন্ধনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের যেসব তথ্য দেয়া হয়, সেগুলো সংগ্রহ করে একটি ডেটাবেইজ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিশুদের তথ্য আগেভাগেই নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেইজে সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে।
ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্তের কথাও জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, আগামীতে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। এসব মেশিন কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, তা নির্ধারণে চূড়ান্ত মজুত যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। কোন পদ্ধতিতে ইভিএমগুলো নিষ্পত্তি করা হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ পাওয়ার পর বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।
ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে আখতার আহমেদ বলেন, প্রথম ধাপে এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়নগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে এর চেয়ে কিছু বেশি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে কমিশন। ইউপি নির্বাচন নিয়ে এবার উপজেলা সদরের ইউনিয়নগুলোকে প্রথম ধাপে অগ্রাধিকার দেয়ার কথাও জানা গেছে। তবে ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ, তফসিল কিংবা নির্বাচন কতটি ধাপে সম্পন্ন হবে, সে বিষয়ে এদিন বিস্তারিত কোনো ঘোষণা দেননি ইসি সচিব।
এদিকে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা যাচাইয়ের কাজও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আইনি জটিলতা, সীমানা বিরোধ এবং অন্যান্য প্রশাসনিক সমস্যার কারণে কোনো ইউনিয়ন যেন তালিকা থেকে বাদ না পড়ে, সে বিষয়ে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
