কক্সবাজারের টেকনাফে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সারভাইভার-নেতৃত্বাধীন সংগঠন অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন। একই সঙ্গে অভিযানে নিহত সেনাসদস্য সৈনিক মো. তিতাস শেখের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং মানবপাচার চক্রের বিচার দাবি করেছে সংগঠনটি।
রোববার সংগঠনটির সভাপতি মো. আল-আমিন নয়নের স্বাক্ষরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর এ বিষয়ে স্মারকলিপি জমা দেয়া হয়।
স্মারকলিপিতে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনোসামাজিক সহায়তা, আইনি সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি মানবপাচার চক্রের মূল হোতা, নিয়োগকারী, অর্থদাতা, অস্ত্রের উৎস এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জাতীয় পত্রিকার বরাতে স্মারকলিপিতে বলা হয়, টেকনাফের রঙ্গীখালী পাহাড়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোলাগুলির সময় সৈনিক মো. তিতাস শেখ গুরুতর আহত হন। পরে রামু সিএমএইচে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ওই অভিযানে ৫৭ জনকে উদ্ধার এবং সন্দেহভাজন পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটকের তথ্য জানানো হয়েছিল।
সংগঠনটি বলেছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা, বর্তমান অবস্থান, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার বিষয়ে হালনাগাদ সরকারি তথ্য নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেককে পৃথকভাবে শনাক্ত ও যাচাই করার পাশাপাশি শিশুদের শিশুবান্ধব সুরক্ষা এবং রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা সংস্থাগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবারে ফেরানোর আগে তাঁদের মতামত ও নিরাপত্তার ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং ইতিমধ্যে ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের সম্মতিতে পরবর্তী সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
মানবপাচারপ্রবণ পাহাড়ি এলাকা, উপকূলীয় অঞ্চল, নৌপথ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় অব্যাহত রাখার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
স্মারকলিপির অনুলিপি জাতীয় মানবপাচার দমন সংস্থার চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক, সিআইডি প্রধান, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এতে পত্রপ্রাপ্তির ৭২ ঘণ্টার মধ্যে একজন যোগাযোগ কর্মকর্তা মনোনয়ন এবং সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সারভাইভার সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে জরুরি সমন্বয় সভা আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি মো. আল-আমিন নয়ন বলেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়াই দায়িত্বের শেষ নয়। উদ্ধার হওয়া প্রত্যেক মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, চিকিৎসা, ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সৈনিক তিতাস শেখের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এই অপরাধের পেছনে থাকা পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনা জরুরি।
টেকনাফে উদ্ধার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন ও মানবপাচার চক্রের বিচার দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনির্বাণের স্মারকলিপি
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
২২ মিনিট আগে
৮ নভেম্বর (রবিবার), ২০২৬, ৬ঃ৩০ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
