তিন দফা দাবিতে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষকদের মানববন্ধন

তিন দফা দাবিতে হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষকদের মানববন্ধন

ফন্ট সাইজ:

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২৩ অনুযায়ী বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ গঠনসহ তিনদফা দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা। রোববার (৮ই নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি (হোমেকশিস) বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে দুই শতাধিক চিকিৎসক ও শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।

মানববন্ধনে সংগঠনের সভাপতি ডা. মো. খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের বিকল্প চিকিৎসাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হোমিওপ্যাথি। ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। তবে প্রশাসনিক জটিলতা ও আইন বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার কারণে এ খাতের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

সমিতির তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন-২০২৩ অনুযায়ী কাউন্সিলের পূর্ণাঙ্গ গভর্নিং বডি ও নির্বাহী পরিষদ গঠন; অনুমোদিত হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সরকার নির্ধারিত বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ; চিকিৎসায় ব্যবহৃত ফার্মাকোপিয়াভুক্ত হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতামুক্ত রাখা।

ডা. খলিলুর রহমান বলেন, দেশে ডিপ্লোমা ইন হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (ডিএইচএমএস) এবং ব্যাচেলর অব হোমিওপ্যাথিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি (বিএইচএমএস) কোর্স চালু রয়েছে। সারা দেশে ৬৬টি বেসরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে বলে জানান তিনি। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান জটিলতা নিরসনে সরকারের উদ্যোগ প্রয়োজন।

মানববন্ধনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মীর মো. নাঈমুল হক বলেন, ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ওই সময় মিরপুরে সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়। পাশাপাশি দিনাজপুর ও পাবনায় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠায় জমি ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আমলেও কাউন্সিলের ভবন কেনা এবং সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নাঈমুল হক আরও বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাশিক্ষার উন্নয়ন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঠিক দিকনির্দেশনা ও দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তিন দফা দাবি জরুরি ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

চুয়াডাঙ্গা হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যক্ষ, ডা. তারেক আহম্মেদ বলেন, ২০২৩ সালে পাস হওয়া হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা আইন পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করে একটি পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল ও নির্বাচিত নির্বাহী পরিষদ গঠন করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বর্তমান সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে নির্ধারণ এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতামুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি। এসব দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশের ৬৬টি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।

ফরিদপুর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক হামিদুল ইসলাম বলেন, স্বল্প খরচে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক অসহায় ও অসচ্ছল মানুষ চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। ওষুধের গুণগত মান বজায় রাখতে নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যালকোহলসহ প্রয়োজনীয় উপাদান ব্যবহার করতে হয়। এসব উপাদানকে মাদকদ্রব্যের সঙ্গে এক করে দেখলে ওষুধ উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণে জটিলতা তৈরি হবে। এ সমস্যা সমাধানে হোমিওপ্যাথিক ওষুধকে মাদক আইনের আওতামুক্ত করা এবং যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিল গঠনের দাবি জানান তিনি।