সিলেটে তৃতীয় দিনে বাংলাদেশের স্কোর একপর্যায়ে ছিল ৭ উইকেটে ১৮৪। সেখান থেকে তাওহীদ হৃদয় নিজের ব্যাটের জাদুতে দলকে ৩৮৬ রান পর্যন্ত নিয়ে যান। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৫৬ রান করেছিল। ফলে ৩০ রানের লিড পায় টাইগাররা। হৃদয় ২৪২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন।
বাংলাদেশি কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ইনিংস এটি। গতকাল দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার সাদমান ইসলাম গোড়ালির চোটের কারণে ব্যাট করতে পারেননি। বাংলাদেশ দশজন ব্যাটার নিয়ে ইনিংস শেষ করে। হৃদয় অষ্ট উইকেট জুটিতে স্পিনার তাইজুল ইসলামের সঙ্গে ১১৭ রান যোগ করেন। ১০ নম্বর উইকেটে পেসার তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ৮৫ রানের জুটি গড়েন। তাইজুল ২২ রান করেন। তাসকিন করেন ১২ রান। হৃদয় এক প্রান্ত আগলে রেখে রান তোলেন বাকিটা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলাররা তাকে আউট করতে পারেননি। তিনি তাসকিন ও তাইজুলকে নিয়ে দলের লিড নিশ্চিত করেন। তিনি সতীর্থদের বলেন ‘ভয় নেই, শুধু আমাকে স্ট্রাইকটা দিন।’ চা বিরতির পর ওয়ারিক্যানের বলে ১ রান নিয়ে তিনি ডাবল সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। হৃদয় মিরপুরে আগের টেস্টে দুই ইনিংসেই অসময়ে শট খেলতে গিয়ে আউট হয়েছিলেন বাজে ভাবে। তার এমন দায়িত্বহীন ব্যাটিং নিয়ে চলছিল তীব্র সমালোচনা, কেউ কেউ তো বলেই দিয়েছিলেন- তাওহীদ হৃদয় টেস্টে চলে না! সেই ভুলের বিষাদ নিশ্চয়ই তাকে তাড়া করেছে। কিন্তু ক্রিকেটের সৌন্দর্যই তো এখানে! এক দিনেই ফুল থেকে সব কাঁটা ঝেড়ে ফেলে নিজে ও দলকে দাঁড়া করালেন কলার উঁচু করে।
বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে এটি ৬ষ্ঠ ডাবল সেঞ্চুরি। তিনি বাংলাদেশের ৪র্থ ব্যাটার হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন। টেস্টে হৃদয়ের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৪২ রানের। এখন তিনি ২৪২ রান করে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ইনিংসের মালিক। রেকর্ডটি ছিল মুশফিকুর রহীমের। মুশফিক ২১৯ রান করেছিলেন। হৃদয় প্রথম ৫০ রান করতে ১০৯ বল খেলেন। পরের ৫০ রান করতে ৬২ বল লাগে। তৃতীয় ৫০ আসে ৬৪ বল খেলে। আর চতুর্থ ৫০ রান করেন ৬৯ বলে। পুরো ইনিংসে হৃদয় খেলেন ৩৫৯ বল। ইনিংসে ২২টি চার ও ১১ ছক্কায় সাজানো । তিনি তামিম ইকবালের এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড ভেঙে দেন। ওয়াসিম আকরাম ও জয়সওয়ালের ১২টি ছক্কা মারার বিশ্বরেকর্ড থেকে তিনি ১টি ছক্কা দূরে থাকতে নিজের ইনিংস শেষ করেন। তৃতীয় দিনে তিনি ২১৩ রান করেন। এর আগে সাকিব আল হাসান এক দিনে ২১২ রান করেছিলেন। হৃদয় সাকিবের রেকর্ডও ভেঙেছেন।
বাংলাদেশের হয়ে মুশফিকুর রহীম তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করেছেন। তিনি ২০৩ এর মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গলে ২০০ রান করেন। এরপর ২০১৮’র নভেম্বরে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ২১৯ রানের ইনিংস খেলেন এবং ২০২০’র ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আবারো ২০৩ রানের ইনিংস খেলেন। ২০১৫ তে তামিম খুলনায় পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০৬ রান করেছিলেন। সাকিব ২০১৭ তেওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রান করেছিলেন। হৃদয় তাদের পর এই তালিকায় যুক্ত হলেন। সিলেটে হৃদয়ের ক্যারিয়ারের এটি ৩য় টেস্ট। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তার টেস্ট অভিষেক হয়। এই ম্যাচের আগে তিনি দুটি টেস্টে চারটি ইনিংস খেলে ৫৪ রান করেছিলেন। এর আগে তিনি ০, ৪২, ৮ এবং ৪ রান খেলেছিলেন। সব কিছু পিছনে ফেরে নিজের ৬ষ্ঠ ইনিংসে এসে প্রথম সেঞ্চুরি পান হৃদয়। তিনি সেই সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটার নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে জোমেল ওয়ারিক্যান ১০৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন। জেইডন সিলস ৫৮ রান দিয়ে ২ উইকেট পান। বাংলাদেশের ইনিংসে মুশফিক ৩৪ রান করেন। লিটন দাস করেন ৮ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৬ রান করে আউট হন। হাসান মাহমুদ ১, নাজমুল হোসেন শান্ত ১৮ রান করেন। তানজিদ হাসান ১৬ রান করেন। নাঈম হাসান ৫ রান করে আউট হন।
