তাওহীদের ‘হৃদয়’ জেতা ডাবল সেঞ্চুরিতে তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশের

সিলেট টেস্ট

তাওহীদের ‘হৃদয়’ জেতা ডাবল সেঞ্চুরিতে তৃতীয় দিনটা বাংলাদেশের

ফন্ট সাইজ:

সিলেট টেস্টে অবিশ্বাস্য এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেছেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশকে একাই টেনে তুলেছেন এই তরুণ ব্যাটার। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দিনশেষে বাংলাদেশকে ৩০ রানের লিড এনে দেন তিনি। দিনশেষে উইন্ডিজ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলেছে। ২৩ রানে পিছিয়ে থেকে রবিবার চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবে ক্যারিবীয়রা।


তৃতীয় দিনের সকালে মাত্র ১৮৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ। অষ্টম উইকেটে তাইজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে ১১৭ রানের এবং নবম উইকেটে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৮৫ রানের অবিশ্বাস্য দুটি জুটি গড়ে দলকে বড় সংগ্রহের পথে নিয়ে যান হৃদয়। ৩৫৯ বল মোকাবিলা করে ২২টি চার ও ১১টি ছক্কায় ২৪২ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ২১৯ রানের রেকর্ড টপকে টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে এখন সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের মালিক তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্টে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন তিনি, যেখানে এর আগে অভিষেক সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রান ছিল মুমিনুল হকের ১৮১। ২৯ রানে দিন শুরু করে একদিনে ২১৩ রান যোগ করেছেন হৃদয়, যা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে যেকোনো এক দিনে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহের রেকর্ড। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৭ রানের ইনিংস খেলার পথে এক দিনে ২১২ রান করা সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। ইনিংসে ১১টি ছক্কা হাঁকিয়ে টেস্টের এক ইনিংসে তামিম ইকবালের ৭টি ছক্কার আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তিনি, এবং কেবল বাউন্ডারি থেকেই এসেছে তাঁর ১৫৪ রান। মাহমুদুল হাসান জয়ের ১৭১ রানের ইনিংসকে পেছনে ফেলে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেকোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ড এখন হৃদয়ের দখলে। দলীয় ৭ উইকেটের পতনের পর শেষ তিন উইকেটে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বেশি রান (২০২ রান) যোগ করার রেকর্ড। তাইজুল ইসলামকে নিয়ে দারুণ ধৈর্যশীল জুটি গড়ে ৫৬ বলে ২২ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে তাইজুল আউট হলেও অষ্টম উইকেটে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ১১৭ রানের রেকর্ড জুটি পায় দল। শেষ ব্যাটার হিসেবে মাঠে নেমে তাসকিন আহমেদও ১২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলে হৃদয়কে যোগ্য সঙ্গ দেন। সাদমান ইসলাম গোড়ালির চোটের কারণে ব্যাটিংয়ে নামতে না পারায় ৩৮৬ রানে বাংলাদেশের ইনিংস থামে এবং দল পায় মূল্যবান ৩০ রানের লিড। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণে জোমেল ওয়ারিক্যান ৪ এবং জেইডেন সিলস ২ উইকেট নেন।