কক্সবাজারের টেকনাফের দুর্গম পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে
দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েও কোনো মরদেহের সন্ধান পায়নি। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অভিযান শেষ করে ফিরে আসে যৌথ বাহিনী।
তবে, স্থানীয়দের ধারণা, সম্ভবত সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি চাউর হওয়ায় গভীর রাতে মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য্যরা লাশগুলো সরিয়ে ফেলতে পারে।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে দুর্গম পাহাড়ে গিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু সেখানে কোনো মরদেহের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। কেউ মরদেহ সরিয়ে ফেলেছে কি না, এমন কোনো তথ্যও পুলিশের কাছে নেই।’
এদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা ও রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে যৌথবাহিনীর দেড় শতাধিক সদস্য অংশ নেন।
যৌথ বাহিনীর সঙ্গে অভিযানে অংশ নেওয়া জাদিমুরা গ্রামের বাসিন্দা মাঈন উদ্দিন ভুট্টো বলেন, ‘সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পাহাড়ে গিয়েছি। সেখানে কোনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। তবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা দু-একটি রান্নার পাতিল, সৌর প্যানেল ও বিছানাপত্র পাওয়া গেছে। পাহাড়টি অত্যন্ত দুর্গম। মরদেহ থাকলেও খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে।’
এদিকে গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর চাউর হয়। স্থানীয়রা ধারণা করছিলেন গোলাগুলির ঘটনায় ওই কয়েকজন নিহত হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয়রা জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাতে যাওয়ার আগেই সেখানে মরদেহ থাকার কথা শোনা গেছে। উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীরাও মরদেহ পড়ে থাকার কথা বলেছেন। তাহলে এখন মরদেহগুলো গেল কোথায়? বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার একই পাহাড়ি এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে মানবপাচারকারীদের একটি গোপন বন্দিশালা থেকে ৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করা হয়। অভিযান চলাকালে যৌথ বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র পাচারকারীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে সেনাবাহিনীর সৈনিক মোহাম্মদ তিতাস শেখ (২৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
তিনটি মরদেহ থাকার খবর, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং অভিযান চালিয়েও মরদেহ না পাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত শুক্রবার কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছিলেন, ‘রঙ্গীখালীর পাহাড়ে তিনটি মরদেহ পড়ে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে যতক্ষণ না সেগুলো উদ্ধার হচ্ছে তা নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না, সেখানে আসলে কোনো মরদেহগুলো আছে কিনা? তা সন্ধানে আমরা কাজ করছি।’
