নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, শেষ বিদায়েও মিললো না রাষ্ট্রীয় সম্মান

নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেন, শেষ বিদায়েও মিললো না রাষ্ট্রীয় সম্মান

ফন্ট সাইজ:

একাত্তরের রণাঙ্গনে যিনি বুকের তাজারক্ত ঢেলে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীন মানচিত্র, মৃত্যুর পরে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার কপালে জুটেছে কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতা আর নিদারুণ অবহেলা। জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করা এই বীর সেনানিকে শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা ‘গার্ড অব অনার’ না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। কুয়াশাঘেরা এক গোধূলিলগ্নে রাষ্ট্রীয় সম্মানহীন দাফন সম্পন্ন হওয়ায় ক্ষোভে ফুটছে এলাকাবাসী, যা নিয়ে পুরো কুমিল্লা জুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮) দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। বার্ধক্যের শেষ দিনগুলো তিনি ঢাকায় ছেলের কাছে কাটিয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকার মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ওই দিনই ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের মহালক্ষ্মীপাড়া গ্রামে আনা হয়। পৌঁছাতে পৌঁছাতে সাড়ে ৫টা বেজে যাওয়ায় শোকার্ত পরিবার ও এলাকাবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে থাকেনÑযদি বীরের এই শেষযাত্রায় রাষ্ট্রীয় সালাম ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রশাসনের কোনো কর্ণপাত মেলেনি। মরহুমের ভাই শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম আমার ভাইকে শেষ সম্মানটুকু জানিয়ে চিরবিদায় দিতে। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। আমরা আজ লজ্জিতÑ যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করলো, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেলো না। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, প্রশাসনের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলামের সাফাই, সন্ধ্যার পর নাকি গার্ড অব অনার দেয়া যায় না। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাকে গার্ড অব অনার না দেয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. ফারুক হোসেন জানান, আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুরো এক পিকআপ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। পুলিশ লাইন থেকে বিউগলের সুর বাজানোর জন্য দলও এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। তবে আমরা জানাজায় অংশ নিয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুন্নী ইসলাম সাফাই সাংবাদিকদের বলেন, সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে দ্বিধা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই দেয়া সম্ভব হয়নি।