রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে আসা ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান প্রথমবারের মতো বিকল্প পথে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি বিশেষায়িত লরি প্রকল্পে প্রবেশ করে। পরিবহন সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও বঙ্গবন্ধু সেতুর রুট ব্যবহার না করে এবার ভিন্ন পথ নির্বাচন করা হয়। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে আসা গাড়িবহরটি ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে, পদ্মা সেতু, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়া ও পাকশীর লালন শাহ সেতু হয়ে রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়। এর আগে পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহনে এই বিকল্প পথ ব্যবহার করা হয়নি। এ নিয়ে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের জন্য অতিরিক্ত একটি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য চারটিসহ মোট পাঁচটি ইউরেনিয়ামের চালান প্রকল্প এলাকায় পৌঁছালো। সাধারণত ইউরেনিয়াম পরিবহনকারী গাড়িবহর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক, বঙ্গবন্ধু সেতু, নাটোরের বনপাড়া ও পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া হয়ে প্রকল্পে পৌঁছাতো। বিকল্প পথ ব্যবহারের বিষয়ে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইনচার্জ কে বি এম রুহুল কুদ্দুস বলেন, গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রথমবারের মতো এই বিকল্প পথে পারমাণবিক জ্বালানি আনা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’ আগেই জানিয়েছিল, দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য মোট ৭টি কার্গো বিমানে ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি এবং প্রথম ইউনিটে পুনরায় জ্বালানি সরবরাহের জন্য আরও ২টি কার্গোতে অতিরিক্ত ৪৮টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৯টি চালানে এসব পারমাণবিক জ্বালানি পৌঁছাবে। রাশিয়ার প্রযুক্তিতে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভিভিইআর-১২০০ মডেলের দু’টি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ‘পাওয়ার স্টার্টআপ স্টেজ-সি’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত ২৯শে অক্টোবর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা) প্রথম ইউনিটে এই কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দেয়। স্টেজ-সি পর্যায়ে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়িয়ে কেন্দ্রের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, টারবাইন-জেনারেটর, পরিচালন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। সব পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হলে প্রথম ইউনিটের জেনারেটর জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত (সিনক্রোনাইজেশন) করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ এগোলে চলতি নভেম্বর মাসেই প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন করা হবে।
প্রথমবার পদ্মা সেতু হয়ে বিকল্প পথে রূপপুরে পৌঁছালো ইউরেনিয়াম
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
৭ নভেম্বর (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
