জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের পদত্যাগ এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত একদিকে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করছে এবং অন্যদিকে তাদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গেও প্রতারণা ও দ্বিচারিতা চালিয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার ঝিনাইদহ শহরের পাগলা কানাই সায়াদাতিয়া জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। এনসিপি’র একাধিক নারী নেত্রীর সাম্প্রতিক পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, নাহিদ ইসলামের সব থেকে বড় অযোগ্যতা হলো সামান্তা শারমিনের মতো নেত্রীদের দলে ধরে রাখতে না পারা। এর আগেও যারা এক ধরনের স্বপ্ন নিয়ে এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন, তাদের অনেকেই একে একে বের হয়ে যাচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এর আগে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জামায়াত সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন যে তারা সংস্কার চায় না, সংস্কারের নামে ভণ্ডামি করছে। ঠিক একই ধরনের অভিযোগ তুলে সামান্তা শারমিনও পদত্যাগ করেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় এই অভিযোগগুলো কতোটা সত্য। জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করে রাশেদ বলেন, বাংলাদেশে জামায়াতের রাজনীতি হলো ইসলামকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। বিদেশিদের সঙ্গে বৈঠকে তারা দাবি করে যে, তারা ক্ষমতায় গেলে শরীয়া আইন কায়েমের কথা বলেনি, অথচ তাদের গঠনতন্ত্রেই তা স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। জোটসঙ্গীদের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কর্নেল অলি আহমেদ জনসভায় প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন যে, জামায়াতের আমীর তাকে কথা দিয়েছেন- ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে শরীয়া আইন নয়, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও সংবিধান অনুযায়ী দেশ চালানো হবে।
এর থেকে স্পষ্ট যে, জামায়াত যেমন বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, ঠিক একইভাবে তারা নিজেদের জোটসঙ্গীদের সঙ্গেও প্রতারণা করে চলেছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি নেতা কেএম ওয়াজেদ, পাগলা কানাই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
