নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে রসিদ ছাড়াই টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি রাজস্ব জমা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগের তীর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিন্ডিকেটের দিকে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, আউটসোর্সিং কর্মী সবুজ এক্স-রে করার জন্য ২০০ থেকে ২১০ টাকা এবং খোদ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে এইচ এম ইফতেখারুল আলম খান আলট্রাসনোগ্রাফির জন্য ২২০ টাকা নেয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেয়া হচ্ছে না সরকারি রসিদ। আদায় করা অর্থ স্টোরকিপার সাদেকুল ইসলামের মাধ্যমে জমা হয় বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সরজমিন একাধিক রোগী ও স্বজনের সঙ্গে কথা বলে রসিদ ছাড়া টাকা নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। দীঘির পাড়ের মিজান তার ৮০ বছর বয়সী দাদির বুকের এক্স-রে করাতে ২০০ টাকা দিলেও রসিদ পাননি। একই অভিযোগ করেন ৭০ বছর বয়সী নিজাম ও আজিমদ্দিন।
হরিশপুরের রিজিয়া (৭০) ও পারুলের (৫৫) কাছ থেকেও ২১০ টাকা করে নেয়া হলেও রসিদ দেয়া হয়নি বলে তারা জানান। আলট্রাসনোগ্রাফি বিভাগেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর দুপুর ১২টার দিকে কর্মকর্তা এসে দিনে ১০টির বেশি আলট্রাসনোগ্রাফি করা হবে না বলে জানান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ছয়দিন এক্স-রে ও তিনদিন আলট্রাসনোগ্রাফি করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ৫০০ রোগী সেবা নিতে আসেন বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সবুজ বলেন, তিনি ছয় বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। জরুরি রোগীদের প্রথমে রসিদ ছাড়াই এক্স-রে করা হয়, পরে রসিদ কাটা হয়। বড় খামের জন্য তিনি ১০ টাকা নেন। প্রাথমিকভাবে কম্পিউটার তথ্য থাকলেও অদৃশ্য কারণে তা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করে রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।
ফলে, রাজস্ব জমা দেয়া নিয়ে নয়-ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কে এইচ এম ইফতেখারুল আলম খান বলেন, লোকবল সংকটের কারণে তিনি নিজেই আলট্রাসনোগ্রাফি করেন। তার দাবি, রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা সব অর্থ মাস শেষে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়। লোকবল কম থাকায় সব সময় রসিদ দেয়া সম্ভব হয় না। অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করা উচিত নয়। একপর্যায়ে তিনি আলট্রাসনোগ্রাফি সেবা বন্ধ করে দেয়ার কথাও বলেন। নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ বলেন, রসিদ ছাড়া কোনো সেবা গ্রহণের নিয়ম নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
