পাবনার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অফিস কক্ষে অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে দৈনিক মানবজমিনে সংবাদ প্রকাশের পর সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সিদ্দিকুর রহমান পিন্টু। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, হাসপাতালের ৮০ লাখ টাকার দরপত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন। তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতার কারণেই তিনি কর্মস্থলে যেতে পারছেন না। শুক্রবার দুপুরে সুজানগর পৌর সুপার মার্কেটে পৌর বিএনপি’র অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পিন্টু এসব কথা বলেন। এ সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে পিন্টু দাবি করেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এমএসআর খাতের ছয়টি প্যাকেজের দরপত্রে এমন কঠিন শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিল, যাতে স্থানীয় ও পাবনার বৈধ লাইসেন্সধারী ঠিকাদাররা অংশ নিতে পারেননি।
দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি গঠনেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, কমিটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রাখা হয়নি; বরং স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দরপত্র পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তার পরিচয় রয়েছে এবং তার স্বামীর সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়ায় তাকে জড়িয়ে অবরুদ্ধ ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে কাউকে অবরুদ্ধ করা কিংবা হুমকি দেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন পিন্টু। তার দাবি, তারা শুধু দরপত্রের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। পিন্টু আরও বলেন, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না। দরপত্রের অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠার পর তিনি ছুটিতে রয়েছেন। নিজের অনিয়ম আড়াল করতেই তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হয়েছে। তবে যুবদল নেতার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুপ্রভা রাণী। তিনি বলেন, আমি কোনো অনিয়ম করিনি।
কেউ অভিযোগ করলে করতে পারেন। কিন্তু আমি অনিয়ম করেছি, সেটা প্রমাণ করতে হবে। হ্যাঁ, আমি ছুটিতে আছি। নিরাপত্তাহীনতার কারণে অফিসে যেতে পারছি না বলেই ছুটিতে আছি। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দরপত্র বাতিলের দাবিতে সিদ্দিকুর রহমান পিন্টুর নেতৃত্বে আট থেকে দশজন তার কার্যালয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ করেন ডা. সুপ্রভা রাণী। তার অভিযোগ, এ সময় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও সিসি ক্যামেরা ঘুরিয়ে দিয়ে কক্ষের ছিটকিনি লাগিয়ে তাকে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় অবরুদ্ধ রাখা হয়। দরপত্র বাতিল না করলে অফিসের বাইরে দেখে নেয়ার হুমকিও দেয়া হয়।
