ঝুলে আছে সড়কের কাজ ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ঝুলে আছে সড়কের কাজ ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

ফন্ট সাইজ:

“মাস যায় বছর যায় কাম শেষ হয় না, হামরা আর কতো কষ্ট করমো, তাগদ থাকলে কষ্ট ভোগ না করে হামরাই কাজ করতাম।” কথাগুলো স্থানীয় বাসিন্দা জামেদ আলীর। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর, তবুও সম্পন্ন হয়নি সড়কের নির্মাণকাজ। মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও সড়কের কাজ শেষ না করে ঝুলিয়ে রাখায় স্থানীয় মানুষসহ হাজারো মানুষের দুর্ভোগ চরমে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোয়া উঠে অসমান এবং বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ায় ভোগান্তিতে এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, অবকাঠামো দক্ষতা উন্নয়ন ও তথ্যের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সহনশীলতা বৃদ্ধি (প্রভাতী) প্রকল্পের আওতায় কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট-জোড়গাছ উপজেলা সড়ক হয়ে নছর উদ্দিন মোড়-পূর্ব মাচাবান্দা শরীফের হাট ইউনিয়ন সড়ক পর্যন্ত ১৪৭০ মিটার সড়ক পাকাকরণের কাজের মেয়াদ শেষ হলেও হয়নি সমাপ্ত। ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দে কাজটি পান এস আর ট্রের্ডাস গাইবান্ধা সদর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তথ্য মতে কাজের মেয়াদ ২০-০৩-২৫ ইং সমাপ্ত হওয়ায় কথা থাকলেও নেই কোনো অগ্রগতি।

দীর্ঘদিন থেকে খোয়া ফেলিয়ে সড়কের কাজ ঝুলিয়ে রাখায় বিভিন্ন স্থানে ভেঙে এবং কোথায় কোথায় খোয়া উঠে সৃষ্ট গর্ত ও অসমান হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষজন। দিন যাচ্ছে দুর্ভোগ আর ভোগান্তি বাড়ছে জনসাধারণের। কথা হলে এলাকার জামেদ আলী বলেন, তাগদ থাকলে হামরাই কাজ করতাম তাও কষ্ট ভোগ করতাম না। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্ধারিত সময় অনেক আগেই পার হলেও দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ থাকায় প্রতিদিনেই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসীসহ হাজারো মানুষ। এলাকাবাসী জানান, উন্নয়ন কাজের নামে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি করেন তারা। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এস আর ট্রের্ডাস এর স্বত্বাধিকারী’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি আর এই বিষয়ে কুড়িগ্রামের সুজন নামে একজনের সাথে কথা বলতে বলেন। উপজেলা প্রকৌশলী জগবন্ধু রায় বলেন, কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য ইতিমধ্যে ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে, দ্রুত সমাপ্ত না করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।