দিনাজপুরের পার্বতীপুরে পারিবারিক কলহের জের ধরে গৃহবধূকে চরম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ নিহত গৃহবধূর ঘাতক স্বামী শিমুল চন্দ্র (৩০)কে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পার্বতীপুর উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের আনন্দবাজার খামার হোসেনপুর গ্রামে। জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জ উপজেলার আফতাবগঞ্জ বাজারের লিমা রানীর সঙ্গে পার্বতীপুর উপজেলার আনন্দবাজার খামার হোসেনপুর গ্রামের শিমুল চন্দ্রের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় প্রয়োজনীয় উপঢৌকন দেয় জামাইকে। তারপরও যৌতুকলোভী প্রায়ই তার স্ত্রীর উপর নির্যাতন করতো।
এ নিয়ে গ্রাম্য সালিশও হয়েছে। গত মঙ্গলবার স্বামীসহ পরিবারের লোকেরা নির্যাতন চালায় এবং এক পর্যায়ে লিমার হাতের রগ কেটে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে গ্রামডাক্তার এনে তার হাতে সেলাই দেয়। প্রতিবেশীরা এ ঘটনার খবর লিমার বাবার বাড়িতে জানালে তারা ছুটে আসেন। এ সময় তারা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে মধ্যপাড়া তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লিমাকে উদ্ধার করে পরদিন বুধবার গুরুতর আহতাবস্থায় ফুলবাড়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে ভর্তি করে দেয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করায় এবং রাত ৯টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূ লিমা রানী (২০) মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের ভাই সৌরভ চন্দ্র বাদী হয়ে পার্বতীপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি নিহত লিমার স্বামী শিমুল চন্দ্র সরকারকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার আসামিকে দিনাজপুর আদালতে সোপর্দ করেছে।
