পোশাকশিল্পসহ দেশের বিভিন্ন খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের উস্কানি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়ার বিষয়গুলো নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা হয়েছে। সমস্যার সমাধানও হয়েছে। কিন্তু দাবি মেনে নেয়ার পরও কারখানা ভাঙচুর, পুলিশ বক্সে আগুন দেয়া, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও একজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার মতো যে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে—তার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিক আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে জড়িত ও উস্কানি দেয়ার অভিযোগে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা। এমনকি যেসব কারখানার মালিক এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের পরিচয়ও ধীরে ধীরে সামনে আসছে।
পোশাকখাতের বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে রিজভী, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরি করে পরাজিত শক্তি কি আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটাতে চায়? নাকি বিরোধী মত দমনে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে?
রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি না করতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আগুনে ঘি ঢেলে উত্তেজনা সৃষ্টির উস্কানি শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ৭ই নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উদযাপনে বিএনপির ৭ দিনব্যাপী কর্মসূচির কথা জানিয়ে রিজভী বলেন, দিবসটি উপলক্ষে শনিবার রাজধানীতে কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা বের করা হবে। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে গিয়ে শেষ হবে এই শোভাযাত্রা। কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে কোনো সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা বা যেকোনো ধরনের অরাজকতা মোকাবিলায় সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সক্ষম ও প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ জনগণও যেকোনো বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করতে সচেষ্ট থাকবে।
