বিশ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির গতিপথ বদলে দিয়েছিল। সেই সিঙ্গুর নিয়ে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সিঙ্গুরে অবশেষে শিল্প ফিরতে পারে। রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি উন্মোচনের পর নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকার একসময় টাটাকে দেওয়া জমিতে ভারী বাণিজ্যিক যানবাহন নির্মাতা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে।
তিনি বলেছেন, "সিঙ্গুরের যে জমি টাটাকে ন্যানো কারখানার জন্য দেওয়া হয়েছিল, সেখানে আমরা কিছু একটা করব। অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে আমাদের কিছু কথা হয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চাই না।"
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার সিঙ্গুরের কৃষিজমিতে শিল্প স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তারা প্রকল্পটি টাটা মোটরসের হাতে তুলে দিয়েছিল। টাটারা সেখানে একটি কারখানা তৈরি করে দেশের সবচেয়ে সাশ্রয়ী গাড়ি ‘ন্যানো’ তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। সেই কারখানায় উৎপাদন শুরুর আগেই এমন এক আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল যে ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যান্দেপাধ্যায়কে বামফ্রন্ট শাসনের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকতে সাহায্য করেছিল।
এরপর টাটা গ্রুপ প্রকল্পটি গুজরাটে সরিয়ে নিয়ে যায়, যেখানে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির এটিকে তার ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। মনে করা হয় এই উদ্যোগ ছিল পরবর্তী অর্ধ দশকের মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে মোদির উত্থানের পথে একটি বড় পদক্ষেপ।
সেইসময় তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, অধিগ্রহণ করা জমিটি অত্যন্ত উর্বর এবং বহু-ফসলি কৃষিজমি ছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় টাটা দুই বছরের মধ্যেই সেখান থেকে চলে গিয়েছিল।
শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণা
পশ্চিমবঙ্গের সিঙ্গুরে ভারী যানবাহন তৈরির কারখানা হবে
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
ভারত
২ ঘন্টা আগে
৬ নভেম্বর (শুক্রবার), ২০২৬, ১১ঃ২১ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
