সার পাচার রোধে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

সরকারের ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করা সার যেন প্রকৃত কৃষকদের হাতেই পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, সারের অপচয় ও দেশের বাইরে পাচার ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার সরমংলা ইকো পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সার যেন আমাদের কৃষকেরা ব্যবহার করেন। কোনো দুষ্টু লোক যেন এই সার অপচয় করতে বা দেশের বাইরে পাচার করতে না পারেন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী জানান, দেশের কিছু সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট কয়েক ধরনের সারের সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী দেশে এসব সারের দাম বেশি হওয়ায় পাচারের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর জন্য বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) অনুরোধ করা হয়েছে।

দেশে ইউরিয়া সারের কোনো সংকট নেই— উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরে দেশে প্রায় ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন ইউরিয়া সারের চাহিদা রয়েছে। এ সারের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। তবে সরকার বেশি ভর্তুকি দিয়ে সরবরাহ করে এমন দু’-এক ধরনের সারের চাহিদা কোনো কোনো এলাকায় বেশি থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।

সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ডিলারের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে প্রতিটি ইউনিয়নে দু’জন করে সার ডিলার ছিলেন। কৃষি আবাদ ও সারের ব্যবহার বাড়ায় এখন প্রতিটি ইউনিয়নে আরও একজন করে ডিলার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। চলতি মাস থেকেই নতুন ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণ শুরু হবে। নতুন ডিলার নিয়োগের পাশাপাশি সার বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। ফলে আগামী রোপণ মৌসুমে সারের সংকট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রাজশাহী অঞ্চলের কৃষির সম্ভাবনা তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকেরা অত্যন্ত পরিশ্রমী এবং কৃষির প্রতি তাদের গভীর আগ্রহ রয়েছে। একসময় এ অঞ্চল মূলত আম উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল। বরেন্দ্র সেচব্যবস্থার সম্প্রসারণের পর ধান উৎপাদনেও এ অঞ্চলের অগ্রগতি হয়েছে। এখন সবজি উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য আসছে।
এর আগে সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর দামকুড়া থানার হরিপুর ইউনিয়নের কসবা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ নাজমুল করিম সুজনের লিচুবাগানে বস্তায় আদা চাষের প্রযুক্তি পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী। ওই বাগানে প্রায় ৭০০টি বস্তায় আদা চাষ করা হয়েছে। এ সময় তিনি চাষপদ্ধতি ও উৎপাদনের সম্ভাবনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন।