জামায়াতের সঙ্গে জোটকে সংস্কারের রাজনীতির পরিপন্থি আখ্যা দিয়ে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। গতকাল রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন জামায়াত প্রকৃত অর্থে সংস্কারের রাজনীতি ধারণ করে না, বরং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার সব
সুবিধা কাজে লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই সংগঠনটির রাজনৈতিক অভিপ্রায়।
১৯৭১ সালে দলটির ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চাওয়া এবং গণহত্যাকে জায়েজ মনে করার মতো রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেও জামায়াত সংস্কারের বন্ধু হতে পারে না। জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে এনসিপি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় ও স্বতন্ত্র অবস্থান হারাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। এ ছাড়া নির্বাচন, নারীর রাজনৈতিক অধিকার এবং দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন লেখেন, ‘কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।’ ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন কয়েকটি প্রসঙ্গে বিস্তারিত লেখেন।
প্রথম প্রসঙ্গ: সংস্কারের বন্ধু জামায়াত হতে পারে কিনা; দ্বিতীয় প্রসঙ্গ নির্বাচন; তৃতীয় প্রসঙ্গ অভ্যুত্থানে নারীর মালিকানা এবং অধিকার; চতুর্থ প্রসঙ্গ: কাউন্সিল এড়িয়ে এনসিপি’র পুনর্গঠন; বাংলাদেশের প্রয়োজন বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে ঐক্যের রাজনীতি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ফেসবুক পোস্টে।
সামান্তা শারমিন বলেন, ‘আপনারা জানেন আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াতে ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোনো ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সঙ্গে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে। ’
এনসিপি’র বিষয়ে এই যুগ্ম আহ্বায়ক বলেন, ‘গত ১১ মাস ধরে আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপি’র অতীত কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্কবিতর্ক বা আলাপ-আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানান চড়াই-উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপি’র অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিসমূহকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোনো গণতান্ত্রিক পন্থা ছিল না। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপি’র পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।’
এনসিপি’র এই নেত্রী বলেন, ‘পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরও উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোনো একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো কখনো নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সঙ্গে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত) কিন্তু, তবুও পুরনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচি তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চাই, পুরনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনোই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এখন সময় এসেছে যখন দলের সঙ্গে আমার এতদিন যেসব মতপার্থক্য হয়েছে, আলাপ-আলোচনা হয়েছে সেসব বিষয় দলের সকলের এবং দলীয় কাঠামোর বাইরের শুভানুধ্যায়ীদের জানানো দরকার।’
