আদালতে পরীমনির অকাণ্ড

আদালতে পরীমনির অকাণ্ড

ফন্ট সাইজ:

মারধর, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিনের করা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমনি জামিন পেয়েছেন। গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করলে শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। বুধবার মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য ছিল। সেদিন পরীমনি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার জামিন বাতিল করে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। তবে ওইদিন পরীমনির আইনজীবী আদালতে সময়ের আবেদন করেন।

আবেদনে তিনি জানান, অ্যালার্জিজনিত অসুস্থতার কারণে পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ আসামিদের জামিন বাতিলের আবেদন করে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। পরোয়ানা জারির পরদিন গতকাল সকালে ১০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী নিয়ে আদালতে হাজির হন পরীমনি। তারা গাড়ির আশপাশে থাকা আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও বিচারপ্রার্থীদের সরিয়ে দিচ্ছিলেন। পরীমনির উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে আদালত এলাকায় উৎসুক মানুষের জটলা তৈরি হয়।

পরে ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরীমনির নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারীরা তাকে ঘিরে আদালত থেকে বের করে গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় সাংবাদিকরা তাকে ঘিরে ধরে জামিনের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চান। কেউ কেউ দূর থেকে প্রশ্ন করেন, জামিনের পরে আপনার প্রতিক্রিয়া কী, প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে চলা এ ঘটনার একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরীমনি। জামিন পেয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে কেউ তাকে ‘ব্যাড টাচ’ করেছে এমন অভিযোগ তোলেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, কতো বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়, সাহস দেখায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মেজাজ হারিয়ে এক সাংবাদিকের মোবাইল কেড়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন তিনি।

একই সময়ে তার ১০ কালো পোশাকধারী বডিগার্ড বেপরোয়া ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে আদালত প্রাঙ্গণে এক সাধারণ বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটে। জটলার মধ্যে ধাক্কাধাক্কির সময় পরীমনি এক সাংবাদিকের হাতে খামচি দিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগও ওঠে। এরআগে আত্মসমর্পণ করতে সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতে আসেন পরীমনি। এ সময় তার সঙ্গে ১০ ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পরে ১১টা ৪১ মিনিটে তিনি এজলাসে যান। তার উপস্থিতিতে জামিন শুনানি শুরু হয়। তবে এজলাসের ভেতর সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেয়াসহ বিশৃঙ্খলা করতে দেখা যায় পরীমনির বডিগার্ডদের। সাংবাদিক ও আইনজীবীদের সঙ্গে বাজে আচরণ করেন ওই বডিগার্ডরা। এদিকে শুনানি শুরু হলে পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী তার জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানি শেষে বেলা ১২টার দিকে তিনি আদালত থেকে বের হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন।

সূত্র মতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা এ মামলায় ২০২৫ সালের ২৬শে জানুয়ারি পরীমনিসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেদিনও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান। মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিবেদন দেয়। অপর আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ২০২১ সালের ৬ই জুলাই বোট ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন। অন্য দুই আসামি হলেন ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ই জুন রাতে বোট ক্লাবে গিয়ে পরীমনি ও তার সহযোগীদের সঙ্গে বাদীর বিরোধ হয়। একপর্যায়ে তাকে গালমন্দ ও মারধর করা হয় এবং একটি সার্ভিং গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারা হয়। এতে তার মাথা ও বুকে আঘাত লাগে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ক্লাবে ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির অভিযোগও আনা হয়।