পোশাকশিল্পে অস্থিরতার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ জড়িত- রিজভী

ফন্ট সাইজ:

অতীতে আওয়ামী লীগ ঘরে ঘরে চাকরি ও বিনামূল্যে সার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। কিন্তু তারেক রহমান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। দেশ যখন উৎপাদন ও উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি, পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্সে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকার আলোচনা করেছে এবং সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে। প্রকৃত শ্রমিকদের দাবির বাইরে একটি মহল আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে উস্কানি দিয়ে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীরা দেশের পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টি ও সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর কাজীর দেউড়ির আলমাস মোড়ে এ সমাবেশ হয়।
রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার আগে ২০০৮ সালে ঘরে ঘরে চাকরি ও বিনামূল্যে সার দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেননি। দিয়েছেন শুধু মিথ্যা আশ্বাস।

অন্যদিকে, তারেক রহমান জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের ব্যাংক লুট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের ঘটনা ঘটেছে। সেই লুটপাটের রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে একটি মহল আবারো অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনে নাশকতা ও সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপি’র এ নেতা বলেন, এ দিন মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, রাজনৈতিক দল করার অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার চেতনার সঙ্গে জড়িত। ১৯৭৫ সালে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাধারণ মানুষ ও সিপাহীদের সম্মিলিত গণজাগরণে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়। তিনি বলেন, ৭ই নভেম্বরের চেতনা থেকেই দেশের মানুষ বারবার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন তারই ধারাবাহিকতা। রিজভী বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ চায়, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে, মতপ্রকাশ করতে পারবে। রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে কাউকে গুম, খুন কিংবা রাতের অন্ধকারে বাড়ি থেকে তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটবে না।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি ও পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান এবং বিএনপি’র আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।