হাইকোর্টের নির্দেশনার পর অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন। এ লক্ষ্যে পরিচালিত ৫২টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে (মোবাইল কোর্ট) প্রায় ৫শ’টি অবৈধ ড্রেজার এবং ২ লাখ ফুট পাইপ ধ্বংস ও অপসারণ করা হয়েছে। অভিযানে মোট ৯৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি আটজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা ভূমি অফিস থেকে কুমিল্লার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গত ৩রা আগস্ট উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাসান খান প্রতিবেদনটি স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রেরণ করেন। প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৩ সালের ৫ই মার্চ হাইকোর্টের রিট পিটিশন আদেশের পর অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিং বন্ধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনরুদ্ধারে এসব ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়। অভিযানগুলো বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের ধারায় পরিচালিত হয়েছে। অবৈধ ড্রেজিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার সড়ক, জলাশয় ও কৃষিজমি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। কোথাও কোথাও ড্রেজারের পাইপ বসিয়ে সড়ক ও কৃষিজমির উপর দিয়েই বালু পরিবহন করা হচ্ছিল। এসব অপকর্ম বন্ধ করে জনসাধারণের চলাচলের পথ ও কৃষি খাত রক্ষায় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নেয়। দুর্গম এলাকা হওয়ায় যেসব স্থানে ড্রেজার জব্দ করা সম্ভব হয়নি, সেসব স্থান থেকে ২১টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে পুকুর বা গর্ত খননের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। শুনানিতে অনুপস্থিত থাকায় পরবর্তী সময়ে নিজ খরচে এসব গর্ত বা পুকুর ভরাটের নির্দেশ এবং এ-সংক্রান্ত ব্যয় আদায়ের বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে অবৈধ ড্রেজার পরিচালনাকারীদেরও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন ও ড্রেজিংয়ের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও আসামিদের গ্রেপ্তারে থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনের প্রমাণ হিসেবে ড্রেজার-সংক্রান্ত ১৬ ফর্দ তথ্য, ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ২৪ ফর্দ প্রতিবেদন, ৫২টি মোবাইল কোর্টের আদেশ এবং একটি স্থিরচিত্র জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো নথিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
