বাবা মনোরঞ্জন শেখের শেষ বিদায়। অথচ শেষবারের মতো বাবার মুখটি দেখার সুযোগও ছিল না মেয়ে ফেরদৌসি খাতুনের। দুই দেশের সীমান্তের কাঁটাতার আর ভৌগোলিক দূরত্ব যেন বাবা-মেয়ের শেষ দেখাটুকুও অনিশ্চিত করে তুলেছিল। বাবা মনোরঞ্জন ভারতে বসবাস করলেও মেয়ে বৈবাহিক সূত্রে বাংলাদেশের মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলায় সানোপুর গ্রামে স্বামীর ঘরে বসবাস করছেন।
অবশেষে মুজিবনগর বিজিবি ও ভারতের ১৬১ বিএসএফের হৃদয়পুর ক্যাম্পের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মিললো বাবা-মেয়ের দেখার সুযোগ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পতাকা বৈঠক শেষে বাবা-মেয়ের দেখা মেলে। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখার আকুতি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন মেয়ে। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তৈরি হয় জটিলতা। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে এলে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেয়া হয়। পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের মাধ্যমে মানবিক বিবেচনায় বাবার শেষ বিদায়ে মেয়ের উপস্থিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় বাবার মুখ শেষবার দেখার সুযোগ পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন মেয়ে ফেরদৌসি। সীমান্তের কঠোর নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও মানবিকতার এমন দৃষ্টান্ত উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাবার শেষ বিদায়ে মেয়ের উপস্থিতির সুযোগ সেই মানবিকতারই একটি উদাহরণ। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক বিষয়গুলোতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এমন সহযোগিতা দুই দেশের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে।
