বরগুনার আমতলীতে (বিএমডিসি’র) রেজিস্ট্রেশনবিহীন দন্ত চিকিৎসকের ছড়াছড়ি এখন আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। চকচকে সাইনবোর্ড সাঁটিয়ে নিরীহ রোগীদের প্রতারিত করে আসছেন তারা। তাদের অপচিকিৎসার শিকার হয়ে ভুক্তভোগী রোগীরা আর্থিক ও শারীরিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সরজমিন দেখা গেছে, উপজেলার গাজীপুর বন্দরে হাওলাদার ডেন্টাল কেয়ার ডেন্টিস মো. ফজলুর রহমান। তিনি দাঁতের রুট ক্যানেল, পুটিং ফিলিং, ক্যাপ ব্রিজ, স্কেলিং পলিসি, দাঁত ও মুখের অভিজ্ঞ ডাক্তার হিসেবে সাইনবোর্ড-ব্যানার টাঙিয়ে চিকিৎসা সেবা দেন। যেহেতু তারা দাঁত ও মুখের অভিজ্ঞ চিকিৎসক দাবি করছে, তাই দন্ত চিকিৎসক সম্পর্কে রোগীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। অপচিকিৎসা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা শহর ও উপজেলার হাট-বাজারে চেম্বার খুলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ভিজিটিং কার্ড, বিলবোর্ড বা সাইনবোর্ডে তাদের নাম ব্যবহার করে ৮/১০ জন ভুয়া চিকিৎসক ‘ডেন্টিস্ট’ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের এসব চেম্বারে সযত্নে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন চিকিৎসার খরচ বাবদ ‘ট্রিটমেন্ট রেট চার্ট’। রেজিস্ট্রেশনবিহীন দন্ত চিকিৎসকেরা রোগীদের আকৃষ্ট করতে তাদের সাইনবোর্ডে নামের পেছনে পদবি হিসেবে কেউ কেউ বিএসসি ডেন্টাল (সিইউ), ডিডিটি ঢাকাসহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম লিখে রেখেছেন। তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ডিপ্লোমা ও বিএসসি টেকনিশিয়ান হয়েছেন। আমতলীর গাজীপুর বন্দরের হাওলাদার ডেন্টাল কেয়ার এর ডেন্টিস্ট মো. ফজলুর রহমান বলেন, তার ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট আছে। ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট দিয়েই তিনি চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (ভারপ্রাপ্ত) প্রশাসক ডাঃ হিমেল পাল বলেন, এ ধরনের রেজিস্ট্রেশনবিহীন ডেন্টিস্টদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে অভিযোগ পেয়েছি। উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মো. হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
