পর্তুগালের মাদেইরার ফুনশাল শহরের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া ছোট্ট শিশুটি হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেনি, একদিন তিনি বিশ্ব ফুটবলের অবিসংবাদিত সম্রাট হবেন। ফুটবলের প্রতি অদম্য ভালোবাসা, কঠোর পরিশ্রম আর স্বপ্নের প্রতি অবিচল বিশ্বাসে যিনি হয়ে উঠেছেন প্রজন্মের আইকন ও রেকর্ডের বরপুত্র। দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে জায়গা করে নেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ও সফল ক্রীড়াবিদদের কাতারে। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ফুটবল বিশ্বকে মাতিয়ে রাখা সেই ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইতি টেনেছেন বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক অধ্যায়ের। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বিবৃতিতে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ৪১ বছর বয়সি এই মহাতারকা। এর মধ্য দিয়ে দেশের জার্সিতে ২৩৪ ম্যাচে ১৪৬ গোল, ইউরো ও নেশনস লীগের সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো।
২০০৩ সালে কাজাখস্তানের বিপক্ষে পর্তুগালের জার্সিতে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তরুণ রোনালদোর। এরপর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠেন দল ও দেশের সবচেয়ে বড় ভরসা। ২০০৪ সালের ইউরো ফাইনালে গ্রিসের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হলেও সেই আসরেই নিজের প্রতিভার জানান দিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ পথচলায় তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তটি আসে ২০১৬ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেও ডাগআউটের পাশে দাঁড়িয়ে সতীর্থদের অনুপ্রাণিত করে পর্তুগালকে প্রথম বড় কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফি উপহার দেন তিনি। পরবর্তীতে তার নেতৃত্বেই ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশন্স লিগের শিরোপাও জেতে পর্তুগিজরা।
রেকর্ড ভাঙা-গড়ার অবিরাম যাত্রায় আন্তর্জাতিক ফুটবলে পুরুষদের বিভাগে সর্বোচ্চ ১৪৬ গোল এবং সর্বোচ্চ ২৩৪ ম্যাচ খেলার অনন্য বিশ্বরেকর্ড এখন তার দখলে। ২০২১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইরানের আলি দাইয়ের ১০৯ গোলের রেকর্ড ভেঙে শীর্ষে ওঠেন তিনি। এছাড়া ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ঘানার বিপক্ষে গোল করে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে গোল করার ইতিহাস গড়েন। যদিও বিশ্বকাপ অধরা রয়ে গেছে, তবে ২০০৬ সালের সেমিফাইনালে ওঠাই ছিল পর্তুগালের জার্সিতে তার সেরা বিশ্বকাপ সাফল্য।
জাতীয় দলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও রোনালদোর অর্জনের ঝুলি ঈর্ষণীয়। স্পোর্টিং লিসবন থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পা রেখে বিশ্বমঞ্চে নিজের নাম লেখান। ইউনাইটেডের হয়ে তিনটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ের পাশাপাশি ২০০৮ সালে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর জেতেন। এরপর রিয়াল মাদ্রিদে কাটিয়েছেন ক্যারিয়ারের সোনালী সময়—ক্লাবের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৪৫০ গোলদাতা হয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়নস লীগ। জুভেন্টাসের হয়ে সিরি ‘আ’ জয়সহ পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লীগ জেতার দুর্লভ কীর্তি রয়েছে তার।
২০২৪ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করে পেশাদার ফুটবলে ক্যারিয়ারের ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন তিনি। বর্তমানে ৯৮৫ গোল নিয়ে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বড় লক্ষ্য ১ হাজার গোলের মাইলফলক ছোঁয়া। আন্তর্জাতিক অধ্যায় শেষ হলেও সেই স্বপ্নের চাকা সচল রাখতে আপাতত সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তি।
মাদেইরার গলি থেকে বিশ্বজয়
প্রজন্মের আইকন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
স্পোর্টস ডেস্ক
খেলা
১ ঘন্টা আগে
৫ নভেম্বর (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ৮ঃ২২ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
