নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী দূষণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা নির্ণয় করে পরিবেশ সচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকে আগামী ৩ মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নদী দূষণের বিষয়ে কোনো ধরনের ব্যর্থতা ছাড়া আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি এস এম ইফতেখার মাহমুদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।জানা যায়, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে অবস্থিত বিভিন্ন শিল্পকারখানা নদীতে অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য ফেলে পানি দূষণ করছে—এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। সেই রিটের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ৬ই মে হাইকোর্ট রুল জারি করে নির্দেশনা দেন। রুলে দূষণকারী শিল্পকারখানাগুলোর বিরুদ্ধে মনিটরিং কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী দূষণে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তার হিসাব করে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।
যেসব শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে শীতলক্ষ্যা নদী দূষণের অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলো—খালেক টেক্সটাইল, লীনা পেপার মিল, আর এস কে ডাইং, খান ব্রাদার্স টেক্সটাইল, এসআরএস নিড ডাইং, মেসার্স রুবেল ডাইং, বাংলাদেশ ডাইং অ্যান্ড প্রসেসিং, এশিয়ান ফেব্রিক, জিলানী ডাইং, গাজীপুর বোর্ড মিলস, নিউ আলম ডাইং, মায়ের দোয়া ডাইং, এম আর ডাইং, আব্দুর রব ডাইং, বিসমিল্লাহ নিড ডাইং, শিমুল ডাইং, রাজ্জাক ওয়াশিং এবং হাজী রাসুল ডাইং।
পূর্বে প্রদত্ত আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এইচআরপিবির পক্ষ থেকে পুনরায় আবেদন করা হলে আজ আদালত এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করেন।
শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ যুক্তি তুলে ধরে বলেন, "পরিবেশ আইন অনুসারে পরিবেশের লাইসেন্স ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু শিল্প মালিকরা আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) ছাড়াই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে শীতলক্ষ্যার পানি দূষণ করছেন, যার ফলে ওই এলাকার পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, আদালত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রায় এক বছর আগে দিলেও এখন পর্যন্ত তা আদালতে দাখিল করা হয়নি।
মামলায় এইচআরপিবির পক্ষে পিটিশনার হিসেবে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট রিপন বারই। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে শিপিং সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পুলিশ, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক এবং অভিযুক্ত ১১৭টি শিল্পকারখানার মালিকদের। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এবং তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খান জিয়াউর রহমান।
