জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ব্যক্তিগত গাড়িতে নগদ ৫ কোটি টাকা বস্তাভর্তি অবস্থায় পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামীম এসব তথ্য জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত হত্যা, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের শীর্ষ ৭ নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (তদন্ত প্রতিবেদন) আমলে নেয়ার ওপর রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শুরু হয়েছে। গত ২রা নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ এর রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
অভিযোগপত্রে নাম থাকা ৭ শীর্ষ নেতা হলেন—সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, ড. আবদুর রাজ্জাক, দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ মামলার সাত আসামির প্রত্যেকেই তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট নেতা ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণে সরাসরি ভূমিকা পালন করতেন। আসামিদের প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততায় তাদের অধীনস্থ ও নিয়ন্ত্রণাধীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সশস্ত্র আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর ব্যাপক মাত্রায় ও পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ চালানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে এসব আক্রমণের অংশ হিসেবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণের মতো অপরাধ সংঘটনে আসামিদের উস্কানি, প্ররোচনা, সহায়তা ও সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধ প্রতিরোধে ব্যর্থতা, অপরাধের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি না দেওয়া এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এছাড়া জাতিসংঘের প্রতিবেদনে জুলাই আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যার তথ্য উঠে আসায় প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধেই ১ হাজার ৪০০ জনকে হত্যার দায়ে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’র (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ আনা হয়েছে।
