এআই বিজনেস সামিট উদ্বোধন করলেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ উদ্বোধন করেন তিনি।
দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করতে এবং জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে এই সামিটের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, আইসিসি’র সভাপতি মাহবুবুর রহমান, ডিসিসিআই'র সভাপতি তাসকীন আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।
আয়োজনকরা জানান, চলমান চতুর্থ শিল্প-বিপ্লবের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক রূপান্তর ঘটছে। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবারের সামিটের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আগামী দিনের অর্থনীতির জন্য এআই-করণ’।
সামিটে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোম্পানি, প্রযুক্তি প্রদানকারী এবং উদ্ভাবকদের অংশগ্রহণে মোট ১৪২টি প্রদর্শনী স্টল রয়েছে। এতে দেড় শতাধিক স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের উদ্ভাবনী ধারণা ও প্রজেক্ট প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১টি কলেজ)-এর শিক্ষার্থীদের পরিচালিত এআই প্রজেক্ট ও প্রোটোটাইপ প্রদর্শনকারী উদ্ভাবনী স্টল রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্র থেকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১টি এবং পাকিস্তান থেকে ৪টিসহ মোট ৫টি বিদেশি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান এই সামিটে অংশ নেয়।
সামিটে প্রায় ৬,০০০ জন দর্শনার্থী ও ২,০০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত রয়েছেন, যার মধ্যে ঢাকা চেম্বার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২০০ জন বিশেষ অতিথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশি-বিদেশি নীতিনির্ধারক, শিল্প বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, করপোরেট ব্যক্তিত্ব এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিসহ প্রায় ২৭ জন সম্মানিত স্পিকার ও আলোচক এতে বক্তব্য রাখবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডিসিসিআই-এর এই সুদৃঢ় যৌথ প্রয়াস দেশের শিল্প ও বাণিজ্য খাতে দায়িত্বশীল এআই প্রযুক্তির রূপান্তর এবং একটি টেকসই এআই ইকোসিস্টেম গঠনে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
