সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিকের আবদার রাখলেন সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। দক্ষিণ সুরমার উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করলেন। এতে খুশী এমপি এমএ মালিক। জানালেন- ‘উন্নয়নে আমরা এক। একসঙ্গে মিলেমিশে সিলেট-৩ আসনের উন্নয়ন করবো।’ এমএ মালিক দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। বাড়ি সিলেট-৩ আসনের দক্ষিণ সুরমায়। আর আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি। এখন সিটি প্রশাসক। তার বাড়ি সিলেট-৩ আসনের ফেঞ্চুগঞ্জে। বিগত এক দশকের বেশি সময় ধরে একই ঘরানার দুই নেতা নিজ আসনের মনোনয়ন নিয়ে ছিলেন মুখোমুখি। একে-অন্যের প্রধান প্রতিপক্ষও। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে শেষ মুহূর্তের লড়াইয়ে তারা দু’জন ছিলেন আলোচনায়। মনোনয়ন যুদ্ধে একে-অন্যের বিরুদ্ধে কৌশলী হয়ে মাঠে মুখোমুখি দাঁড়ান। শেষ পর্যন্ত এমএ মালিক দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি এমপি নির্বাচিত হন। কাইয়ূম চৌধুরী বঞ্চিত ছিলেন। দলের হাইকমান্ডের তরফ থেকে কাইয়ূম চৌধুরীকেও খুশী করা হয়।
সিলেট সিটি প্রশাসক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পান। বর্তমানে দু’জনের কর্মক্ষেত্র আলাদা। কেউ কারও প্রতিপক্ষ নয়। কেউ কারও বিরুদ্ধাচরণও করছেন না। তবে আগের বিরোধের কারণে দূরত্ব তো রয়েছে। কাছাকাছি আসতে পারছিলেন না তারা। নিজ আসনের দক্ষিণ সুরমার ৬টি ওয়ার্ড নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সিটি করপোরেশনে। এ ওয়ার্ডগুলোর এমপি এমএ মালিক। অনেকদিন ধরেই অবহেলিত ওই ওয়ার্ডগুলো। সিটিতে নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে এমপি হিসেবে এমএ মালিক উন্নয়নে তেমন ভূমিকা রাখতে পারছিলেন না। এ নিয়ে তার আফসোস থেকে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি ছুটে যান নগর প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূমের কাছে। গতকাল দুপুরে এমপি মালিক যান নগর ভবনে। সেখানে প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরী তাকে সাদরে বরণ করেন। দক্ষিন সুরমার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেন। এমপি মালিক আসার পর ওই ৬টি ওয়ার্ডের আগামীর উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন কাইয়ূম চৌধুরী। জানালেন- ওই ৬টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৮০ কোটি টাকার কাজ করা হবে। এর মধ্যে অর্ধেক কাজ শুরু করা হয়েছে।
বাকি থাকা কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ওই ৬টি ওয়ার্ডের যেসব উন্নয়নের কথা এমপি মালিক প্রশাসককে অবগত করেছেন সেগুলোও করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন প্রশাসক। আলোচনার পর এমপি মালিককে নিজ কার্যালয়ে আপ্যায়ন করান প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরী। এমএম মালিক এমপি মানবজমিনকে জানিয়েছেন- গতকালই প্রথম কাইয়ূম চৌধুরীর নগর ভবনের কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। তিনি উন্নয়নে আন্তরিক। দক্ষিণ সুরমার ৬টি ওয়ার্ড সিটিতে থাকায় কোনো কাজই করতে পারছিলাম না। তার কাছে যাওয়ার পর তিনি উন্নয়ন করাবেন বলে কথা দিয়েছেন। কিছু কিছু উন্নয়ন হয়েছে। আরও প্রায় ১৩৭ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শুরু করার কথা জানিয়েছেন। এমপি জানান- উন্নয়ন নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই। জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসঙ্গে কাজ করছি, আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন- ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সিলেট আসার দিন এমপি মালিক সিটি করপোরেশনে আসার কথা বলেছিলেন। আমি তাকে স্বাগত জানিয়েছি। এমপি মালিক ও আমি একই এলাকার মানুষ।
আমরা একসঙ্গে উন্নয়ন কাজ করছি। দক্ষিণ সুরমার নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ৬টি ওয়ার্ডে ২৮০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে বলে জানান- তিনি। এদিকে এমপি এমএ মালিক সিটি করপোরেশন থেকে ফিরে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক পেজে প্রশাসক কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন- ‘সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের সঙ্গে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এই আসনের ৬টি ওয়ার্ডের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, নাগরিক সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ নগরীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় আমরা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম, ইতিমধ্যে যেসব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, সেসব কাজের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছি।’
তিনি উল্লেখ করেন- ‘এই ৬টি ওয়ার্ডের মানুষেরও রয়েছে উন্নত সড়ক, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতামুক্ত পরিবেশ, পরিচ্ছন্ন সড়ক এবং মানসম্মত নাগরিক সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা। তাদের প্রত্যাশা পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের কোনো বিকল্প নেই।
