মুক্তিযুদ্ধের পর সঠিক পররাষ্ট্রনীতির অভাবে বিদেশি অনেক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়

জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের আলোচনাসভায় জহরত আদিব চৌধুরী

মুক্তিযুদ্ধের পর সঠিক পররাষ্ট্রনীতির অভাবে বিদেশি অনেক সাহায্য বন্ধ হয়ে যায়

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পর সঠিক পররাষ্ট্রনীতি অবলম্বন না করার কারণে বিদেশি অনেক সাহায্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। নতুন রাষ্ট্র হিসেবে সেই প্রভাব এড়াতে না পেরে দুর্ভিক্ষসহ বিভিন্ন সমস্যা আমাদের ঘিরে ধরেছিল।
বুধবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত ‘স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির তুলনামূলক পর্যালোচনা’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন দেশ হিসেবে আমাদের যারা স্বীকৃতি দিচ্ছিল, তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সেই সুযোগ আমরা নষ্ট করেছি।

তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্র গঠনের পর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কে না গিয়ে মুজিব সরকারের একটি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে। স্বাধীনতা-পরবর্তী দশকের দ্বিতীয় ভাগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে যেখানে আমাদের স্বার্থ আছে সেখানেই সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করেছেন। বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ শ্রমশক্তিকে জনশক্তি হিসেবে বিদেশে রপ্তানির দুয়ার খুলে দিয়েছেন। অন্যদিকে শেখ মুজিব সরকার দেশের গণতন্ত্র নষ্ট করে বাকশাল কায়েম করেছিল, যা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছিল।

আলোচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. মো. আব্দুল মান্নান বলেন, মুক্তিযুদ্ধে ভারত তাদের কৌশলগত স্বার্থের জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করেছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের আগে আওয়ামী লীগ সরকার এমনভাবে প্রচার করতো, যেন ভারত স্বয়ং স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হতো। ভারত সব সময়ই তাদের স্বার্থের জন্য বাংলাদেশকে নতজানু হিসেবে দেখতে চেয়েছে।

অনুষ্ঠানের সভাপ্রধানের বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহ্সান মাহমুদ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী এক দশকে পররাষ্ট্রনীতির অবস্থা বুঝতে হলে মোটাদাগে শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথাই সামনে আসে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যে দীর্ঘ লড়াই ছিল, সেটির পর যখন দেশ স্বাধীন হলো, তখন শেখ মুজিবুর রহমানের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে তারুণ্য পার করা নাগরিকদের মনে হলো, দেশ এখন পাকিস্তানের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে ভারতের হাতে চলে এসেছে। তারা এটা মেনে নিতে পারেনি।