জাবির পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিরোধের নেপথ্যে 'স্বার্থের দ্বন্দ্ব'

ফন্ট সাইজ:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের (সিএলসি) নতুন পরিচালক নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান সংকট ও ছাত্র আন্দোলনের নেপথ্যে ভিন্ন এক 'স্বার্থের দ্বন্দ্বের' অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালীর দিকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২ নভেম্বর দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোস্তফা নাজমুল মানছুর তমালকে সিএলসি ইনস্টিটিউটের নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই নিয়োগের পরপরই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে ব্যবহার করে আন্দোলনে নামানোর পেছনে ভূমিকা রাখেন সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা। শুরুতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল বাইরে থেকে কোনো শিক্ষক নয়, বরং ইনস্টিটিউটের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকেই পরিচালক নিয়োগ দিতে হবে।

তবে এই আন্দোলনের মোড় ঘোরে গতকাল। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা হুট করেই তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে গণমাধ্যমকে জানান, বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালীকে সিএলসি-র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করে মেনে নেবেন। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের একটি অংশের এই আকস্মিক দাবিতেও সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শামীম রেজার 'নেপথ্য হাত' রয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।
ইনস্টিটিউটের এক শিক্ষার্থী জানান, অধ্যাপক শামীম রেজা ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালী বিশ্ববিদ্যালয়ের অরুনাপল্লীর একই বাসায় বসবাস করেন।
অনিরুদ্ধ কাহালীর ভাইয়ের মেয়ে স্বচ্ছসলিলা কাহালি তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাকে ভবিষ্যতে এই ইনস্টিটিউটের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকে পরিচালক বানিয়ে স্বচ্ছসলিলা কাহালিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতেই এই আন্দোলনের নেপথ্য কলকাঠি নাড়াচ্ছেন ইন্সটিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. শামীম রেজা ও অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালী। এই দুজন অধ্যাপক নিজদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে অধ্যাপক ড. শামীম রেজাকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অধ্যাপক ড. অনিরুদ্ধ কাহালী বলেন,আমি কোথাও বলিনি যে, আমি পরিচালক হতে চাই। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও এ বিষয়ে আমার কোনো কথা হয়নি। কেউ যদি আমার নাম প্রস্তাব করে থাকে, সেটার দায়িত্ব আমি নিতে পারব না। এই আন্দোলনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যেদিন প্রথম ঘটনা ঘটেছে, সেদিন আমি ঢাকায় ছিলাম। কোনো পদে যাওয়ার প্রতি আমার আগ্রহ বা ইচ্ছা নেই।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা মেনেই আমরা পরিচালক নিয়োগ দিয়েছি। কে পরিচালক হবেন, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়ম অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করেছে। আমি সারাদিন খুঁজেও এখন পর্যন্ত ওই ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পরিষদের হালনাগাদ তথ্য পাইনি। একটি ইনস্টিটিউটের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, একাডেমিক কার্যক্রম ও কারিকুলাম পরিচালনা পরিষদ থেকে অনুমোদিত হওয়ার কথা। সেখানে পরিচালনা পরিষদ হালনাগাদ না থাকলে ইনস্টিটিউট কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেটি প্রশ্নের বিষয়। তিনি আরো বলেন, ‘অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি সবার কাছে গ্রহণযোগ্য মানুষ। আমি মনে করি অধ্যাপক অনিরুদ্ধ কাহালি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেবেন এবং তার নামে এ ধরনের অভিযোগ এলে সেটি খণ্ডন করবেন।’