শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিফ প্রসিকিউটরের চিঠি

শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্পদ বাজেয়াপ্তে চিফ প্রসিকিউটরের চিঠি

ফন্ট সাইজ:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত যেসব আসামি পলাতক অবস্থায় নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করেননি, তাদের সম্পত্তি দ্রুত সরকারের হেফাজতে নিয়ে নিলামে বিক্রির নির্দেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে বিক্রয়লব্ধ অর্থ জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে বিলিবণ্টনের পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আজই চিঠি পাঠাচ্ছি। এছাড়া ট্রাইব্যুনালের অন্য রায়গুলোতে যাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সে রায় বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আমরা চিঠি দেবো। শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্তের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটরের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ই নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড ও আসামির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই শহীদ পরিবার ও ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলি করার আদেশ প্রদান করেছেন। এই মামলার রায়ে ট্রাইব্যুনাল সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। অবিলম্বে দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সরকারের নিয়ন্ত্রণে না নিলে দণ্ডিত পলাতক আসামি যেকোনো সময় তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ, বিক্রয় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করে ট্রাইব্যুনালের বাজেয়াপ্তকরণ সংক্রান্ত রায় ও আদেশ নিষ্ফল করে দিতে পারে। এমতাবস্থায়, অবিলম্বে দণ্ডিত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করে, তা রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশমতে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও ভিকটিমদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বিলিবন্দোবস্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আপনাকে সবিশেষ অনুরোধ করা হলো। চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, বিভিন্ন আসামির মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হয়েছে। কনভিকশনের পর যেসব আসামি জেলে বা হাজতে আছেন, তারা নিয়মমাফিক আপিল দায়ের করেছেন এবং তা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে তাদের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। তবে পলাতক আসামিদের অনেকেই নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে আপিল দায়ের করেননি। আইনগতভাবে তাদের আর আপিল করার সুযোগ নেই।

তিনি জানান, পলাতকদের অনেকের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত এবং তা বিক্রয় করে জুলাই শহীদ পরিবারগুলোর মধ্যে বিতরণের আদালতের নির্দেশনা রয়েছে। আসামিরা যাতে এই সম্পত্তি হস্তান্তর বা বিক্রি করতে না পারেন, সেই আশঙ্কা থেকেই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে। সরকারের হেফাজতে নিয়ে সম্পত্তি শনাক্তকরণের পর তা নিলাম বা আইনগত প্রক্রিয়ায় বিক্রি করে জুলাই ফাউন্ডেশন বা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে শহীদ পরিবারগুলোর মাঝে পৌঁছে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের রায়ে আসামিদের ৫০ শতাংশ সম্পত্তি বিক্রির কথা বলা হয়েছে। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দেয়া হবে যে, রোম স্ট্যাটিউট অনুযায়ী ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা যেতে পারে। রায়ে এটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ না থাকলেও প্রচলিত পাবলিক ডিমান্ড রিকভারি অ্যাক্ট বা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৮৬ ধারা অনুযায়ী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এটি বাস্তবায়নে কোনো আইনি বাধা নেই।

এদিকে ট্রাইব্যুনালের এক প্রসিকিউটরের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং তার ইতালি চলে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর জানান, ঘুষের অভিযোগ ওঠায় তাকে আগেই বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি তার দায়িত্ব নেয়ার ১ মাসের মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেন। তবে তার দেশত্যাগে কোনো আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল না। ঘুষ নেয়া এবং দেয়া—উভয়ই অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযোগটি তিনি প্রাইমা ফেসি স্বীকারও করেছিলেন। ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির রিপোর্ট বিলম্বের বিষয়ে তিনি জানান, কমিটির এক সদস্যের দীর্ঘ অসুস্থতা, তার নিজের বিদেশ সফর এবং অন্য প্রসিকিউটরের পারিবারিক শোকসহ নানা কারণে সময় লেগেছে। কমিটির কার্যক্রম বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং খুব শিগগিরই তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।