বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা সমাধান করুন

কারামুক্ত আখতারুজ্জামানকে জামায়াতের সংবর্ধনা

বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা সমাধান করুন

ফন্ট সাইজ:

বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার সমাধানের চেষ্টা করার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বিশৃঙ্খল বাংলাদেশে পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা চাপা দেয়ার জন্য এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে সংবর্ধনা প্রদান ংঅনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এক মাস দুইদিন কারাভোগের পর মঙ্গলবার সকালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। কারাগারের ফটকে জামায়াতে ইসলামী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। পরে তিনি সরাসরি জামায়াত আমীরের সরকারি বাসভবনে যান এবং সেখানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা সংসদের ভেতরেও বলেছি, এই বসন্তের কোকিল— যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছে, বসন্তকাল পার হওয়ার পর তাদের আর দেখা পাবেন না। আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে, তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, আমরা সাবধান করে দিচ্ছি, বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতার সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি তা করেন এবং মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে। আর যদি মনে করেন, অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের দুঃসংবাদ দিচ্ছি, বাংলাদেশে আর তা হবে না। এই জনগণ আর ফ্যাসিবাদকে কখনো কবুল করে নেবে না। ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নত করবো না।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংঘবদ্ধ জনবল রুখে দাঁড়িয়েছে, রুখে দাঁড়াবে এবং দিন দিন এর গতি বৃদ্ধি পাবে। একটা জায়গায় গিয়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে।
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অনেকটা কমেছে। তার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের জন্য তিনি যে প্রতিবাদ করেছিলেন, তার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে।
আমাদের সহকর্মী তিনি কারও গায়ে হাত দেননি উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিন্তু তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চাপানো হলো যে তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়েছেন। যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এর প্রতিবাদ তখনই করেছি।

তিনি আরও বলেন, সেদিনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। যদি তাদের কোনো অপরাধ না থাকে, তাহলে দু’জনকে বরখাস্ত করা হলো কেন? তিনি ট্রলি নিয়ে কথা বলেছিলেন। সেখানে এসে ট্রলি লটারির মতো টানতে হয়। কেউ পায়, কেউ পায় না। ইতিমধ্যে দেখেছেন, দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি সংযুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ তার উত্থাপিত দুর্বলতাও মেনে নেয়া হয়েছে।
জামায়াত আমীর বলেন, জেল তো বহু খেটেছি। অনেক প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে ফল পাইনি। আপনি পেয়ে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও লজ্জাজনক মামলা দেয়া হয়েছে। তাকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এটাও আরেকটি লজ্জার বিষয়। ভিত্তিহীন এই মামলায় নিম্নআদালত থেকে জামিন দেয়া হলো না। চোখ বেঁধে উঠানো হলো, মাথায় হেলমেট পরানো হলো, বুকে সেফটি ভেস্ট পরানো হলো। সবকিছুর পরও সাহস হলো না এখান থেকে জামিন দেয়ার। হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হলো। আবার কাপুরুষের মতো চেম্বার জজে টেনে নেয়া হলো। সবই লজ্জার, ঘাটে ঘাটে লজ্জা, মহালজ্জা। কিন্তু যাদের লজ্জা থাকার কথা, তাদের তো লজ্জা লাগে না।

জামায়াত আমীর আরও বলেন, যতদিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না যাবে, আমাদের লড়াই ততদিন চলবে। আমাদের প্রিয় সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না। এটাই আমাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান বলেন, বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অব্যবস্থাপনা ও হয়রানির প্রতিবাদ করায় আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ করার এখতিয়ার পুলিশকে কে দিয়েছে?

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমার চোখ বেঁধে জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে পুলিশ কেন জানতে চাইবে? বাংলাদেশের আইন পুলিশকে এমন এখতিয়ার দেয়নি। কোনো রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা পুলিশের দায়িত্ব নয়। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে পুলিশ অবশ্যই তদন্ত করবে এবং অপরাধের তথ্য উদ্ঘাটন করবে। কিন্তু রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুসন্ধানের নামে জিজ্ঞাসাবাদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

গত ১লা অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে আলোচনায় আসেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ওই ঘটনার পর ২রা অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।