চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাত নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই ছাত্রীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নে আইআইইউসি’র প্রধান ফটকের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মাইশা মুশফিরাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে আরও দুই ছাত্রী রয়েছেন। এদিকে দুর্ঘটনার প্রতিবাদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং পাশের রেললাইন অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরে ৯ ঘণ্টা পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, ঢাকামুখী দু’টি লরি দ্রুতগতিতে প্রতিযোগিতা করে চলছিল। এ সময় সামনে থাকা একটি প্রাইভেটকারকে বাঁচাতে গিয়ে একটি কন্টেইনারবাহী লরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ঢাকামুখী ৮ নম্বর পরিবহনের একটি মিনিবাসের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে লরিটি উল্টে যাওয়ার পাশাপাশি মিনিবাসটিও কাত হয়ে পড়ে। এ সময় বাস থেকে নামা দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী চাপা পড়েন। বাসের ভেতরে থাকা ৮ থেকে ১০ জন যাত্রীও আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও উদ্ধারকর্মীরা আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেয়ার পর চিকিৎসক মাইশা মুশফিরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম আশেক জানান, সীতাকুণ্ডের দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে মাইশাকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে শিক্ষার্থী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। একই সঙ্গে পাশের রেললাইনে গাছের গুঁড়ি ফেলে রেলপথও অবরোধ করেন তারা। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত ছিল।
অবরোধে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় সড়ক পারাপার দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে সেখানে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ এবং নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে তারা সড়ক অবরোধে বাধ্য হয়েছেন। বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম শুভ জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন লরি দু’টি আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লরি দু’টি ও ক্ষতিগ্রস্ত মিনিবাস উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহত শিক্ষার্থীর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা মুনির চৌধুরী বলেন, সকালে বাস থেকে নামার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি বিষয়টি তদারকি করছেন।
