ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী

সিএনএনের রিপোর্ট

ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী

ফন্ট সাইজ:

ইরানের কেশম দ্বীপে সোমবার সীমিত আকারে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের তিন কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, হামলাটি ছিল প্রতিরক্ষামূলক এবং এর উদ্দেশ্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সম্পদ ও স্থাপনা সুরক্ষিত রাখা। এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি মার্কিন বিমানের ওপর ইরানের গুলিবর্ষণের জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এটাকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বলে মনে হচ্ছে না, যা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা আগে আলোচনা করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথম এ অভিযানের খবর প্রকাশ করে। পত্রিকাটি জানিয়েছে, এর আগেও এ ধরনের আরও কিছু হামলা গোপনে চালানো হয়েছে। আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, ভূপৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মার্কিন সম্পদকে লক্ষ্যবস্তু করছিল ইরানিরা। তাদের বিরুদ্ধে এটি ছিল একটি প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ।

এ খবর দিয়ে সিএনএন বলছে, নির্বাচনের আগের দিন নতুন এ হামলার ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে ইরানের পরিস্থিতি এখনো অমীমাংসিত। সেখানে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপটিকে অতিরঞ্জিত করে তুলে না ধরার উদ্দেশ্যে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে হামলার বিষয়টি গোপন রেখেছিল। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক সম্পদ সুরক্ষিত রাখতেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।

সোমবার ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, একটি চুক্তি ‘হতে পারে’। সোমবার রাতে ফক্স নিউজে প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার খবর সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্তের পক্ষে ব্যাপকভাবে যুক্তি তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে কোনো লড়াই হয়নি বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, আমরা কোনো যুদ্ধ করছি না। সবাই বলে, আপনারা যুদ্ধে আছেন! আচ্ছা, আমরা সর্বশেষ কখন কোনো কিছুতে গুলি চালিয়েছি? এটি কোনো যুদ্ধ নয়। এটি খুবই মৃদু একটি যুদ্ধ। এটি চলমান কোনো যুদ্ধের মতো নয়। সেখানে কোনো যুদ্ধ তীব্রভাবে চলছে না। তারা যদি চুক্তি না করে, তাহলে এটি ঘটতে পারে। তবে তারা খুবই মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায় এবং আমাদের চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুব ভালো।
একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ভ্যান্স বলেন, ইরানিরা সব সময়ই কিছুটা অনিশ্চিত আচরণ করে। আর প্রেসিডেন্ট সব সময় বলেন, তার সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিকল্প রয়েছে, আবার সামরিক শক্তি প্রয়োগ ছাড়া অন্য বিকল্পও রয়েছে। তবে আমরা অবশ্যই কিছুটা অগ্রগতি করেছি। দেখা যাক, আরও কিছু অগ্রগতি করা যায় কি না।

ইরানের বন্দরনগরী বন্দর আব্বাস থেকে প্রায় ১৪ মাইল দূরে অবস্থিত কেশম দ্বীপ। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ দ্বীপটি হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যুদ্ধ শুরুর আগে এ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হতো। চলমান যুদ্ধের আগে ও পরে বিভিন্ন সময়ে কেশম দ্বীপকে টার্গেট করেছে যুক্তরাষ্ট্র।