খেলার সময় হাঁটুর জোড়ায় আঘাত পেতে পারেন। যাকে স্পোর্টস ইনজুরি বলা হয়। যা যথোপযুক্ত চিকিৎসা পরিচর্যা না নিলে খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি ঘটতে পারে বা পঙ্গু হতে পারেন। হাঁটু সাধারণত শরীরের বড় ও ওজন বহনকারী জোড়াগুলোর মধ্যে অন্যতম বিধায় হাঁটুতে স্পোর্টস ইনজুরিতে আক্রান্ত হয় বেশি।
হাঁটুতে চারটি প্রধান লিগামেন্ট ও দু’টি মিনিসকাস (তরুণাস্থি) থাকে। ফুটবল, ক্রিকেট, বাস্কেটবল, ভলিবল, হ্যান্ডবল, কাবাডি ও হাডুডু খেলোয়াড়দের হাঁটুতে স্পোর্টস ইনজুরি হয়। এ ধরনের অধিকাংশ স্পোর্টস ইনজুরি মচকানো (টুইসটিং) প্রকৃতির। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংঘর্ষ ছাড়াই (নন-কনট্র্যাক্ট) বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হাঁটু ও পায়ের বিভিন্ন অবস্থানের জন্য লেগের হাড়ের (টিবিয়া) বাইরে বা ভেতর ঘূর্ণন হয় অথবা সামনে বা পেছনে সরে যায়। এ ধরনের আঘাতে হাঁটুর লিগামেন্ট ও মেনিসকাস ইনজুরি হয়ে থাকে।
ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি খেলোয়াড়দের মাঝে এনটেরিওর ক্রুসিয়েট ও মিডিয়াল কোল্যাটারাল লিগামেন্ট ইনজুরি বেশি হয়। ৭০% ব্যক্তির এনটেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট ইনজুরির সঙ্গে মেনিসকাস ইনজুরি থাকে। এ ছাড়াও জোড়া স্থানচ্যুতি এবং হাড় (টিবিয়াল স্পাইন) ফ্র্যাকচার হতে পারে।
প্রাথমিক করণীয়
হাঁটুকে পূর্ণ বিশ্রামে রাখতে হবে।
বরফের টুকরা টাওয়ালে বা ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পলিথিন ব্যাগে নিয়ে লাগালে ব্যথা ও ফোলা কমে আসে। হাঁটুতে ইলাসটো কমপ্রেসন বা ব্রেচ ব্যবহারে ব্যথা ও ফোলা কমে আসে। অ্যানালজেসিক বা ব্যথানাশক ওষুধ দিতে হবে।
চিকিৎসা ও প্রতিরোধ
হাঁটুর বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে কী কী লিগামেন্ট ইনজুরি হয়েছে এবং এর তীব্রতা নির্ণয় করা যায়। কখনো কখনো এক্স-রে ও এমআরআই’র সাহায্য নিতে হয়। হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি ও মেনিসকাসের ক্ষুদ্র ইনজুরি হলে প্রাথমিক চিকিৎসায় ভালো হয় এবং খেলোয়াড় খেলায় ফিরে যেতে পারে। তবে কিছু কিছু আংশিক টিয়ারের ক্ষেত্রে হাঁটুর পেশির ব্যায়াম ও দৈনন্দিন কাজকর্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে সুস্থ থাকা যায় এবং নিয়মিত খেলাধুলা করতে পারবে। লিগামেন্টের মধ্যে এনটেরিওর ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট তৈরি করা জরুরি। না হলে হাঁটু অস্থিতিশীল এবং দ্রুত ওসটিওআর্থ্রাইটিস হয়ে জোড়া নষ্ট হবে। এখন ছোট দু’টি ছিদ্র দিয়ে আর্থ্রোস্কোপ যন্ত্র হাঁটুতে প্রবেশ করিয়ে নতুন লিগামেন্ট তৈরি করা হয়। বড় ধরনের মেনিসকাস ইনজুরি হলে রিপেয়ার করা হয়।
আর্থ্রাস্কোপিক সার্জারির পর নিয়মিত ও পরিমিত পরিচর্যার মাধ্যমে রোগী দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এবং খেলায় ফিরে যেতে পারবে।
লেখক: অধ্যাপক, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগ হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ এবং আর্থ্রোস্কোপিক সার্জন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর), ঢাকা। চেম্বার: বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতাল লি., শ্যামলী, মিরপুর রোড, ঢাকা-১২০৭। হটলাইন-১০৬৩৩, ০১৭৪৬৬০০৫৮২।
