বিরোধীদলের কণ্ঠ স্তব্ধ করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জনগণের অধিকার আদায়ে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান যেভাবে লড়াই করেছেন, জামায়াতও একইভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে। জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের দুর্ভোগের প্রতিবাদে আখতারুজ্জামানের ভূমিকা সফল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তার প্রতিবাদের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।’
মঙ্গলবার জামায়াতের আমীরের সরকারি বাসভবনে কারামুক্তির পর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন জামায়াত আমীর।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সেদিন আখতারুজ্জামানসহ জামায়াতের আরও ৩৪ জন সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বিদেশ থেকে ফিরেছিলেন। তাদের লাগেজ পেতে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। মদিনা থেকে ওমরাহ করে ফেরার সময় তাদের জমজমের পানিও লাগেজের সঙ্গে আসেনি। প্রথমে বলা হয়, পানি আপলোড হয়নি। পরে প্রতিবাদ করলে জানানো হয়, আপলোড হয়েছে, কিন্তু বেল্টে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দরের এমন অব্যবস্থাপনা ও দুর্ভোগ দেখে আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেন।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘প্রতিবাদের ভাষা কঠিন হলেও তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর তিনি আখতারুজ্জামানকে আগাম জামিনের চেষ্টা করবেন কি না জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি জানিয়েছিলেন, কোনো অন্যায় করেননি, তাই আত্মসমর্পণ করবেন না।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি ট্রলির সংকটের কথা বলেছিলেন। এখন দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগের পর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যাচ্ছে।’ আখতারুজ্জামানের প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত আমীর বলেন, ‘আখতারুজ্জামান জেলে থাকলেও শুধু দেশের মানুষ নয়, প্রবাসীরাও তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ করেছেন। বিভিন্ন দেশে সভা-সমাবেশ, মিছিল এমনকি দূতাবাস ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য তার প্রতিবাদের সুফল এখন পাওয়া যাচ্ছে।’
আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তার, রিমান্ড ও জামিন নিয়ে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালত থেকে জামিন না দিয়ে তাকে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। হাইকোর্টে জামিন পাওয়ার পর আবার চেম্বার আদালতে নেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনা সরকারের জন্য লজ্জাজনক।’
